গ্রেটা থুবার্গের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে ১৫৩ এ ধারা (ধর্ম বর্ণের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচারের অভিযোগ) ও ১২০ বি ধারার (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ভিত্তিতে। কিন্তু তারপরেও জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী জানিয়েছেন তিনি এখনও পর্যন্ত রয়েছে দিল্লির উপকণ্ঠে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কৃষকদের পাশে রয়েছেন। কোনও ভাবেই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রাতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। সেটির সঙ্গে শেয়ার করেন একটি টুলকিট। কিন্তু কিছু সময় পরেই তিনি তার পোস্টটি মুছে ফেলেন। বৃহস্পতিবার সকাল গ্রেটা থুনবার্গ আরও একটি পোস্ট করেন। যেখানে তিনি লিখেছেন এটি টুলকিটের আপডেট ভার্সান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যাঁরা আন্দোলনকারী কৃষকদের সহযোগিতা করতে চায় এটি তাদের জন্য। 


কী রয়েছ গ্রেটা থুনবার্গারে 'না মুছে ফেলা' ৯ পাতার  টুল কিটে? 

আন্দোলনকারী কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ছবি, ম্যাসেজ আর ভিডিও শেয়ার করার কথা বলা হয়েছে। 
ডিজিটাল স্ট্রাইকের কথা বলা হয়েছে 
কৃষক আন্দোলন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন পড়ার কথা বলা হয়েছে। 
কাছাকাছি  ভারতীয় দূতাবাস ও সরকার অফিস ও মিডিয়া হাউসে অবস্থান বিক্ষোভের কথা বলা হয়েছে। 
কৃষকদের মিছিলে অংশ নেওয়া অথবা দেখার কথা বলা হয়েছে। 
সরকারি প্রতিনিধিদের ইমেল করার অথবা ফোন করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনলাইন পিটিশানে সই করার কথাও বলা হয়েছে।

কৃষক আন্দোলন নিয়ে চলছে ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্র, স্পষ্ট হল গ্রেটা থুনবার্গের মুছে ফেলা বার্তা থেকে .

কৃষক আন্দোলন ইস্যুতে টুইটার যুদ্ধ, গ্রেটার বিরুদ্ধে FIR দিল্লি পুলিশের, কঙ্গনার পোস্ট মোছা হল ...

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারনা যাঁরা এই টেমপ্লেটটি ব্যবহার করেছেন তাঁদের মধ্যে কংগ্রেস পার্টিও রয়েছে। কেরলের মহিলা ইউনিট হ্যান্ডেলে গুগল ড্রাইভের সঙ্গে টুইটার গুলির প্রচুর পরিমাণে মিল রয়েছে। এই ম্যানুয়ারে ভারতীয় প্রশাসনকে বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করতে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে। মাইক্রসফট পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশেনর মাধ্যমেই এই টুল কিটটি উপস্থাপন করা হয়েছে। পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশন এটি তৈরি করেছে। এই সংস্থার সহকারী প্রতিষ্ঠাতা স্বনিযুক্ত অধ্যাপক তথা খালিস্থানি সমর্থক মো দালিওয়াল উপস্থাপনায় তালিকাভুক্ত এজেন্ডার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মতোবিরোধের ফ্যাসিবাদী প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা।যেখানে কটাক্ষ করা হয়েছে যোগা আর চা-এর ছবি। 

এটি গ্রেটার পুরনো পোস্ট, যেটি তিনি সরিয়ে ফেলেছেন 

এই থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে এই ২৬ জানুয়ারি কৃষক প্যারেড থেকে আন্দোলনকারীদের উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী বড় কর্মসূচি রয়েছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি। এই দুটি দিল দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের সঙ্গে সঙ্গে কৃষক আন্দোলন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলারও কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে টুলকিটটিতে আগের তুলনা কিছুটা হলেও সুর নরম করার কথা বলা হয়েছে আগেরটির তুলনায়। কিন্ত সবকিছু ছাপিয়ে প্রকাশ পেয়েছে ভারত বিরোধী চক্রান্তের ছাপ। এটিতে যেমন আম্বানি ও আদানিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কথা বলা নেই। একই সঙ্গে মুছে ফেলা হয়েছে ২৬ জানুয়ারির পরিকল্পনার কথা।