প্রেসিডেন্ট কিম জং উন কি 'বডি ডাবল' ব্যবহার করছেন, অর্থাৎ, তাঁর মতো দেখতে আরেকজনকে তিনি বলে চালানোর চেষ্টা করছেন? উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে নতুন সন্দেহ দানা বাঁধছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে সংবাদ মহল এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে কিম জন উন-এর স্বাস্থ্য চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০ দিন বাদে আচমকা কিম প্রকাশ্যে দেখা দেওয়ায় পরও সেই চর্চা থামেনি, বরং আরও অনেক অনুমান, সন্দেহ তৈরি হচ্ছে কিম-কে ঘিরে।   

করোনভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রহস্যজনকভাবে জনসাধারণের চোখের সামনে থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন কিম। এপ্রিলের শুরুতে তাঁকে একবার দেখা গিয়েছিল, তারপর থেকে প্রায় এক মাস ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এমনটা তাঁর স্বভাব নয়। তিনি সাধারণত প্রচারের আলোয় থাকতেই পছন্দ করেন। আর তাই,  থাকা নিয়ে বেশ কিছু অনুমান তৈরি হয়েছিল। অনেকেই দাবি করেছিলেন কিমের স্বাস্থ্যের অবস্থা বেশ খারাপ। আবার একদল বলেছিলেন, তাঁর হৃদযন্ত্রের বড় অপারেশন হয়েছে। সেখান থেকে একেবারে তাঁর মৃত্যু হওয়ার খবরেও পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্ব। এমনকী তাঁর কাকা না বোন, কে উত্তরাধিকারি হবেন, তাই নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

কিন্তু, সব গুঞ্জন, গুজবের মুখে ছাই দিয়ে ফের শিশুসুলভ হাসিমুখ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ফের প্রকাশ্যে ধরা দেন গত ২ মে। গোটা দুনিয়ায় যখন তাঁর মৃত্যু নিয়ে জল্পনা চলছে, তখন যেন সবাইকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্যই ফিতে কেটে একটি সার কারখানার উদ্বোধন করেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। এতেই সব গুজবের মুখ বন্ধ করা হবে বলে অনেকেই মনে করেছিলেন।

কিন্তু, তাঁর সেই ফিকে কাটার ছবির মধ্যেই কিম-এর উধাও হওয়া ও একমাস পর হঠাৎ করে সুস্থ শরীরে সামনে আসার রহস্যের সমাধান রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই প্রায় নিশ্চিত, কিম জং উন বডি ডাবল ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ, তাঁর মতো দেখতে আরেকজনকে কিম বলে চালানো হচ্ছে। যেমনটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের নিশানা থেকে বাঁচতে হিটলার, স্টালিন, চার্চিল-রা করে থাকতেন। দাবি করা হচ্ছে একবছর আগের তোলা ছবিতে যে কিম-কে দেখা যাচ্ছে, আর ওই ফিতে কাটার ছবিতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি এক লোক নন।

ফিতে কাটার ছবিতে যে হাসিুমুখের কিমকে দেখা যাচ্ছে, তার বিশেষ করে দাঁতের গঠন, ঠোঁটের বাঁক, চুল এবং কানের লতির গঠন কিম-এর পুরোনো ছবির সঙ্গে একেবারেই মিলচে না বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকী ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য লুই মেনশ-ও এই মতের সামিল। কোরিয়ান মানবাধিকারকর্মী জেনিফার জেং-ও দুই ছবির দুই কিমের হেয়ারলাইন, দাঁতের গঠন এবং কানের গঠনের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। বলে দাবি করেছেন।