গাজা ভূখণ্ডে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে ইসরাইলি হামলা। শনিবার, গাজায় একটি ১২ তলা-বিশিষ্ট বহুতলে এসে আঘাত করে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র। ওই বহুতলটিএকেবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। জানা গিয়েছে, ওই বহুতলে আল-জাজিরা, অ্যাসোসিয়েট প্রেস বা এপি-র মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অফিস ছিল। আল-জাজিরা কাতারের একটি সংবাদ চ্যানেল আর অ্যাসোসিয়েট প্রেস হল মার্কিনি সংবাদ সংস্থা। ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে গাজা ভূখণ্ড থেকে সংবাদ প্রচার বন্ধ করার প্রয়াস হিসাবেই দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মহল।  

জানা গিয়েছে, ওই বহুতলটির নাম জালা টাওয়ার। সেখানে আঘাত হানার আগেই, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ভবনটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সতর্ক করা হয়েছিল বহুতলের মালিককে, তিনি বাসিন্দাদের সতর্ক করেন। জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অফিস ছাড়াও এই বহুতলে কয়েকটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টও ছিল। সতর্কতা জারির প্রায় এক ঘন্টা পর আঘাত হানা হয় ওই বাড়িটিতে। পুরো ১২ তলা বাড়িটিই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। আকাশে ধোঁয়ার মেঘ তৈরি হয়। কিন্তু ঠিক কেন এই বাড়িটিকে আক্রমণ করা হয়েছিল, সেই সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও এই ঘটনার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

এর কয়েক ঘন্টা আগেই গাজা শহরের এক ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে আরেকটি বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরাইলি বাহিনী। তিন তলা বাড়িটিতে এই আঘাত হানার ফলে একই প্যালেস্তাইনি পরিবারের ১০ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন শিশু ও দুইজন মহিলা। ওই হামলার আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও আগাম সতর্কতাও জারি করা হয়নি, বলে দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা।