আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei)। ৮৬ বছরের খামেনেই নিজের অফিসে কাজ করছিলেন। সেই সময়েই হামলা হয়।

আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei)। ৮৬ বছরের খামেনেই নিজের অফিসে কাজ করছিলেন। সেই সময়েই হামলা হয়। ইরান ইন্টারন্যাশনালের মতে, মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় (US, Israel attack Iran) আইআরজিসির একজন শীর্ষ কমান্ডার আলি শামখানিও নিহত হয়েছেন, যা ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা। শামখানি ছিলেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে তারা ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে শামখানি এবং ইসলামিক আইআরজিসি-র কমান্ডার মুহাম্মদ পাকপুরও রয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শনিবার কেন টার্গেট?

সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে ইজরায়েল ও আমেরিকা। মার্কিন সূত্র সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, খামেনেই মূলত শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানে এই বৈঠক করবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ইজরায়েলি গোয়েন্দারা শনিবার সকালেই বৈঠকের বিষয়টি জানতে পারে। তারপরেই হামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, খামেনেই ঠিক কোথায় বৈঠক করবেন, তা স্পষ্ট ছিল না।

দুটি ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে শনিবার উপদেষ্টা শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে নিরাপদ স্থানে বৈঠকে বসেছিলেন খামেনেই। কিছুক্ষণ পরেই হামলা শুরু হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রবিবার ভোরে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে, কালো ব্যানার সহ আর্কাইভ ছবি সম্প্রচার করে। ইরানি মিডিয়া খামেনেইয়ের মেয়ে, জামাই এবং নাতনির মৃত্যুর খবরও জানিয়েছে। সংবাদসংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার সময় খামেনেই নিজের কাজের জায়গায় ছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কাপুরুষোচিত হামলাটি হয়েছে শনিবার ভোরের দিকে।

ইরান এবার কার হাতে?

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন না বরং গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে পরিচিত ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতার একটি সংস্থা দ্বারা নির্বাচিত হন। প্রতি আট বছর অন্তর তাঁরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ইরানের সংবিধান অনুসারে, এই ধর্মীয় নেতাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে হবে, তবে দেশ যখন আক্রমণের মুখে থাকবে তখন নিরাপত্তার কারণে এটি করা কঠিন হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের কাউন্সিল, বিচার বিভাগের প্রধান এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের একজন ধর্মীয় সদস্য অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশ চালাবেন।