ফের উত্তর কোরিয়ার একচ্ছত্র শাসক কিম জং-উনের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। গত কয়েক মাস ধরেই তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কিনা, বেঁছে থাকলেও কী অবস্থায় আছে - এই নিয়ে বিস্তর জল্পনা-কল্পনা চলেছে। এবার জাপানের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে 'সন্দেহ' প্রকাশ করা হল। বৃহস্পতিবার কোরিয়ার গৃহযুদ্ধের ৭০ তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনো, কিম-জং-উন'র স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কোনো বলেন, কিম জং-উন'এর স্বাস্থ্য সম্পর্কে জাপান বেশ সন্দিহান। উত্তর কোরিয়ায় এই মুহূর্তে 'খুব অদ্ভুত গতিবিধি' চলছে। কারণ কিম প্রাণপণে কোভিড-১৯'এ 'সংক্রামিত না হওয়ার চেষ্টা করছেন'। তবে গোটা উত্তর কোরিয়াতেই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে কিম-এর ঠিক কী হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে জানাতে অস্বীকার করেছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। 'গোয়েন্দা তথ্য বিষয়ে আলোচনা করার অনুমতি নেই' বলে এড়িয়ে গিয়েছেনয তবে উত্তর কোরিয়ার এই স্বৈরতান্ত্রিক শাসকের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ নিজেদের মধ্যে গোয়েন্দা আদানপ্রদান করছে বলে জানান কোনো।

উত্তর কোরিয়া বরাবরই তাদের দেশে একজনও করোনা আক্রান্ত নয় বলে দাবি করলেও, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে আগেই গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

গত এপ্রিলে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে দেখা যায়নি কিম-কে। বৃদযন্ত্রে অস্ত্রপচারের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমন খবর রটেছিল। তবে ১ মে দেশে একটি নতুন সার কারখানা উদ্বোধনে তিনি আবার হাসিমুখে ধরা দিয়েছিলেন। কিন্তু, তারপর থেকে তাঁকে আবার দেখা যাচ্ছে না। এমনকী ১ মে তিনি নিজে জনসমক্ষে আসেননি, বরং তাঁর বডি ডাবল ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছিলেন অনেকে।

অত্যাধিক মদ্যপান, বেহিসেবি খাওয়া দাাওয়া, অত্যাধিক ধূমপানের জন্যই কিন জং-উন পরিচিত। এই সবকটি বদভ্যাসের জন্যই তাঁর করোনা সংক্রমণ হলে প্রাণের ঝুঁকি কয়েক গুণে বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিলেন জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বলা হয় বিশ্বে চিনের একমাত্র বন্ধু দেশ পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া। শি জিনপিং কি তবে তাঁর এক বন্ধুকে হারালেন?