হাজার হাজার বছর আগের সেই বরফের স্মৃতি উস্কে দিল মেক্সিকো। সদ্যো মেক্সিকো সিটির নতুন বিমান বন্দর এলাকা উদ্ধার হয়েছে  একাধিক  প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর দেহাবশেষ। আর সেগুলি নিয়ে রীতিমত উৎসাহী হয়ে পড়েছেন নৃতত্ববীদ আর বিজ্ঞানীরা। প্রাচিন এই প্রাণীগুলির দেবাবশেষ পরীক্ষা করে বরফের যুগ সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলেও তাঁরা মনে করছেন। 


রাজধানীর উত্তর প্রান্তে অবস্থিত জুম্পাঙ্গো থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রাগৈতাহাসিক ও বিলুপ্তপ্রায় বিশালাকার প্রাণীগুলির দেহ। স্থানীয় একটি প্রাচীন হ্রদেরই তলায় ওই প্রাণীদর দেহাবশেষ ছিল। ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে ১০০টিরও বেশি ম্যামথ, উট, ঘোড়া বাইসন, মাছ ,পাখি, হরিণ আর ইঁদুর। খননকারী দলের প্রধান ক্যাপ্টেন যিশু ক্যান্টোরাল বলেছেন, গতবছর অস্টোবরে জ্বানালি টার্মিলানে কাজ করার সময় এই এলাকাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। পরে পুরো জায়গাটি ১৯৮টি সেক্টরে ভাগ করে সন্ধান চালাতে শুরু করেন। উদ্ধার হওয়া প্রাণীর দেহাবশেষগুলি প্রায় ১০ -২৫ হাজার পুরনো বলেই দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে এই জাতীয় প্রাণি কয়েক হাজার বছর আগে রাজ  করত পৃথিবীতে।

একটি বিশালাকার ম্যামথের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। এই যা উদ্ধারকরতে কালঘান ছুটে গেছে খননকারী দলের সদস্যদের। বিশেষজ্ঞদের কথায় পরীক্ষার জন্য তাঁরা ম্যামথের দেহাংশটিকে তাঁরা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই এলাকায় প্রাচিনকালে একটি হ্রদ ছিল। আর তার চারপাশে প্রচুর গাছ আর প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল- যা ম্যামথেরে মত বিশালাকার প্রাণীগুলিকে আকৃষ্ট করেছিল। দীর্ঘ দিন ম্যামথরা এই এলাকায় রাজত্ব করেছিল। কিন্তু কোনও এক শীতকালে হ্রদের জল কমে যায়। আর হ্রদের কাদায় আটকে পড়ে দৈত্যাকার ম্যামথ ও অন্যান্য প্রাণীগুলি অনাহারে মরে যায়। তবে আগামী দিনে লেকটি সংরক্ষণ ও জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

অন্যদিনে এই এলাকায়ে একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল মেক্সিকো সরকার। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগেও মেক্সিকোতে একাধিক প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। ২০১২ সালেই যখন বর্জ্য থেকে জল শোধনাগার স্থাপনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু হয়েছিল তখন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা একটি বিশালাকার ম্যামথের দেহ উদ্ধার করেছিল। সেই সময়ই উদ্ধার হয়েছিল বরফের যুগের বেশ কয়েকটি পশুর দেহাবশেষও।