শুক্রবার জেনেভা-তে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৫তম অধিবেশনে, ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি সেন্থিল কুমার সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধুয়ে দিলেন পাকিস্তান-কে। ভারতের রাইট টু রিপ্লাই বা উত্তর দেওয়ার অধিকার ব্যবহার করে সেন্থিল বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ। এখন তা খুবই নিচে নেমে গিয়েছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের মিথ্যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাবে, সেন্থিল কুমার পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে প্রকৃত কাশ্মীরিদের অপসারণ করে সেখানকার ডেমোগ্রাফি বদলের পাল্টা অভিযোগ আনেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বেলুচিস্তানের বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি সাফ জানান, এই অঞ্চলে জোর খাটিয়ে কাউকে গায়েব করে দেওয়া, রাষ্ট্রীয় হিংসা, অভিবাসনে বাধ্য করা, শোষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সেনা অভিযান, নৃশংসতা, নির্যাতন, বন্দি  শিবির কিংবা সামরিক শিবিরে আটকে রাখার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় সেখানকার নৈমিত্তিক ঘটনা।

পাকিস্তানে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দুর্দশার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদ-এর মতো পাকিস্তানের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতেও ছাড়েননি রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ মানবাধিকার এবং মানবতা লঙ্ঘনের সবচেয়ে খারাপ রূপ। অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্য়া প্রচার করার আগে পাকিস্তানের মনে রাখা উচিত, যেই দেশ সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর এবং কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত, তাদের  থেকে বিশ্বের মানবাধিকার সম্পর্কে কোনও পাঠের প্রয়োজন নেই।

তবে শুধু ভারতই নয়, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে, ইউরোপিয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ-এর ডিরেক্টর জুনেইদ কুরেশিও, পাকিস্তানের আসল রূপটা উন্মোচিত করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ১৯৮০-র দশকের শেষের দিক থেকেই পাক সেনাবাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরের যুবকদের, হিজবুল মুজাহিদিন, লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে ব্যবহার করে চলেছে। সামাজিক পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া, হাজার হাজার কাশ্মীরিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া, যুবকদের একটি ছদ্ম যুদ্ধে ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করার মতো অপরাধ করার পরও কী পাকিস্তান পার পেয়ে যাবে - তিনি প্রশ্ন তোলেন।