গত কয়েক মাসে দীর্ঘদিনের বন্ধু নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এর শুরুটা হয়েছিল বিতর্কিত তিন এলাকাকে নিয়ে নেপালের সরকারি মানচিত্র প্রকাশের মধ্য দিয়ে। শুক্রবার অবশ্য এই মানচিত্র বিতর্কের যাবতীয় দায়ভার ভারতের উপরই চাপালো নেপাল।

এদিন, নেপালি বিদেশমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালি দাবি করেন, নেপালের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভারতীয় বন্ধুদের বারবার কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু, ভারত সরকারে নেপালের সেই অনুরোধ কানেই তোলেনি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ভারত সরকার ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের অষ্টম সংস্করণ প্রকাশ করেছিল। সেই মানচিত্রে কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরা - অর্থাৎ যে তিন জায়গা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ রয়েছে তা ভারতের মানচিত্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই সময়ই নেপাল রাজনৈতিক বিবৃতি এবং কূটনৈতিক পথে ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল।

ভারতের সঙ্গে এই জায়গাগুলির অধিকার নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসতে চেয়েছিল কাঠমান্ডু। এমনকী এই আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার সম্ভাব্য তারিখের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, নয়াদিল্লির নেতারা সেই সময় নেপালের সেই প্রস্তাবের কোনও জবাব দেওয়ারই প্রয়োজন মনে করেননি। তবে এই একবার নয়, বরাবরই নেপাল এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেই দাবি করেছেন প্রদীপ গাওয়ালি।

অনেকেই মনে করেন নেপাল ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে এই নয়া মানচিত্র প্রকাশ করেছে চিনের প্রশ্রয়ে। এদিন কিন্তু, নেপালে চিনের প্রভাব বাড়ার বিষয়টিকে পাত্তা দিতে চাননি নেপালি বিদেশমন্ত্রী। বরং তিনি ভারত ও চিনের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, উহান শীর্ষ সম্মেলনের পরে ভারত ও চিনের মধ্যে বন্ধুত্ব গভীর হয়েছিল। তবে,গ্যালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পরে আপাতত দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। তবে দুই দেশই এই উত্তেজনা কমানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে বলেই তিনি দাবি করেছেন। যদিও, ভারত এইদিনই বলেছে, চিন মুখে দাবি করলেও, পূর্ব লাদাখের সব জায়গা থেকে এখনও তারা সেনা প্রত্যাহার করেনি।