উত্তর কোরিয়াতেও এবার করোনার ছায়া যা কিছুটা হলেও মেনে নিয়েছে কিম প্রশাসনক্যাসাং শহরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলেই অনুমানসংক্রমণ প্রতিরোধে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি  

উত্তর কোরিয়ার কি ক্রমশই বাড়ছে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব? এখনও তেমন স্পষ্ট করোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মনে করা হচ্ছে ধীরে ধীরে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে সেই দেশে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে আইসোলেশনে পাঠান হয়েছে। দক্ষিণের একটি শহরের জনজীবন প্রায় স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছ। প্রশাসনের তরফ থেকেই খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরেই উত্তর কোরিয়া প্রশাসন দাবি করেছিল সেই দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। কিন্তু পিয়ংইয়ং প্রশাসনের সেই দাবি প্রায় ভ্রান্ত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি। তবে রাষ্ট্র সংঘের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। উত্তর কোরিয়া সীমান্ত এলাকাগুলি সিল করে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেই সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বহিরাগত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। 


জুলাইয়ের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়া প্রশাসন জানিয়েছিল প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত লাগোয়া ক্যাসাং শহরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত এক ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। তারপর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। লকডাউনও জারি করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে আক্রান্ত ব্যক্তি ক্যাসাং-এর যাওর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছিল। 

উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্র সংঘের পর্যবেক্ষক এডউইন সালভাদোরের মতে এখনও পর্যন্ত ক্যাসাংএ ৬৪ জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। গোটা দেশে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালিত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া নিজেই করোনা আক্রান্তের বিষয় রাষ্ট্র সংঘকে জানিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রাষ্ট্রটির কাথে তথ্য গোপন না করে তা ভাগ করে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। 

দীর্ঘ দিন ধরেই উত্তর কোরিয়া দাবি করে আসছিল সেদেশে করোনা সংক্রমণের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। কিন্তু অনেকেই তা মানতে নারাজ। কারণ এই দেশটি চিনের সঙ্গে বিস্তীর্ণ সীমান্ত ভাগ করে নেয়। উত্তর কোরিয়া তথ্য গোপন করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ক্যাসাং-এর ঘটনা সামনে আসার পর সূত্রের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে দেশে চলছে লকডাউন। যে কোনও রকম জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা স্যানিটাইজার, মাস্ক ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করছেন। ৫০ হাজারেও বেশি করোনা প্রতিরোধের সামগ্রী পাঠান হয়েছে ক্যাসাং-এ। তবে এখনও পর্যন্ত দেশটিকে কতজন আক্রান্ত হয়েছে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য পেশ করেনি কিং জং উনের প্রশাসন। তবে এই দেশটি করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিলে স্বাস্থ্য পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।