আবারও ভারতের বিরুদ্ধে সরব হল চিন। এবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ন প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফর নিয়ে রীতিমত উষ্মা প্রকাশ করেন। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই সময় কোনও পক্ষের এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা ঠিক যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। 

ঝাও লিজিয়ন বলেন ভারত ও চিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মধ্যে দিয়ে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও পক্ষেরই কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা ঠিক নয় যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফর নিয়েই চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এই মন্তব্য করছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফর উস্কানিমূলক হিসেবেই দেখছে চিন। 

শুক্রবার সকালে আচমকাই প্রধানমন্ত্রী লে সফরে যান। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান সেনা ছাউনিতে। গালওয়ানে ভারত ও চিনা সেনার সংঘর্ষে আহত ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করতে লে-র হাসপাতালেও যাবেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন দেশের সেনা প্রধান এসএস নারাভানে ও চিফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখমাত্রের মন্তব্যে পরিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর এই সফর খুব একটা ভালো চোখে নেয়নি তারা। কিন্তু কোন যুক্তিতে দেশীয় ভূখণ্ডে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর উস্কানিমূলক তা অবশ্য এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করেনি বেজিং। 

তবে ভারত চিন সীমান্ত সংঘর্ষের পরই বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত। সপ্তাহের প্রথমে ব্যান করা হয়েছে টিকটক সহ অত্যন্ত জনপ্রিয় ৫৯টি চিনা অ্যাপ। রাতারাতি কার্যকর করা হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানান হয়েছিল দেশের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তারপরই রাস্তা সহ সরকারি নির্মাণকাজে চিনা বরাত থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছ। আর সপ্তাহ শেষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফর। যা নিয়ে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিন। সীমান্ত সমস্যা সমাধামে চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসেছিল ভারত ও চিনের সেনা কর্তারা। সূত্রের খবর সমস্যা সমাধানে আরও দুই দেশের মধ্যে আরও আলাপ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেই জানিয়েছে দুই দেশের সেনা প্রধানরা।