শতকের পর শতক ধরে ক্যাথলিক গির্জার চার দেওয়ালের মধ্যে যৌন হেনস্থা ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কখনই সেইসব অভিযোগকে পাত্তা দেওয়া হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী অপরাধী সফলভাবে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, গত বছর এই বিষয় নিয়ে যথেষ্ট বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয় পোপ ফ্রান্সিস-কে। তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে যা যথেষ্ট বড় আঘাত ছিল। এক বছর যেতে না যেতেই ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মকে এই কালিমা-মুক্ত করতে সচেষ্ট হলেন তিনি।

ক্যাথলিক চার্চের জন্য এই বিষয়ে নতুন আইন জারি করলেন তিনি। তাতে বলা হয়েছে এখন থেকে গির্জার মধ্যে কোনও যৌন হেনস্থা ও তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটলে পাদ্রি বা নানদের সেই ঘটনা গির্জা কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হবে। তবে পুলিশে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে কোনও নির্দেশ জারি হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভ্যাটিকান সিটিতে পোপের উপস্থিতিতে সারা বিশ্বের ক্যাথলিক নেতাদের নিয়ে একি শীর্ষস্তরের বৈঠক হয়েছিল। সেখানেই গির্জার মধ্য়ে যৌন হেনস্থার ঘটনার মোকাবিলা কীভাবে করা যায় তাই নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এই অপরাধ রুখতে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করার অজ্ঞিকার করেথছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। এরপরই এই নয়া আইন জারি করা হল।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ঊর্ধতনের হাতেই নিপীড়িত হন অধস্তন। কাজেই অভিযোগ জানানোর কাজটাও যথেষ্ট কঠিন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে সহজে ব্যবহার করা যায়, এবং যা একেবারে প্রকাশ্য, এরকম একটি অভিযোগ জানানোর সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। ২০২০ সালের ১ জুনের মধ্যেই সেই কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পোপের নয়া আইনে আরো বলা হয়েছে অভিযোগ জানানোর ৯০ দিনের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করতে হবে।

নিঃসন্দেহে পোপ ফ্রান্সিস একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। হাজার বছর ধরে চলে আসা অপরাধের চাকে ঢিল মারতে চেয়েছেন। তবে এতে কতটা কাজ হবে তাই নিয়ে প্রথমেই সন্দিহান ক্যাথলিক সমাজ। প্রথমত পুলিশ প্রশাসনকে এই ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পোপের জারি করা এই আইন না মানলে দোষী পাদ্রি বা বিশপের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, নিলে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে - এই বিষয়গুলিও স্পষ্ট করা হয়নি।

ক্যাথলিক সমাজ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে গির্জার চার দেওয়ালের মধ্যে এই অপরাধ চলে এসেছে। গির্জা কর্তৃপক্ষই যৌন হেনস্থার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কাজ করেছে। এখনও পর্যন্ত এই কারণে কোনও কর্তা-ব্যক্তিকেই অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়নি। সেই সঙ্গে প্রমাণের অভাবে প্রায় সবক্ষেত্রেই অপরাধী পার পেয়ে গিয়েছেন। নতুন আইন জারির পরেও এই বিষয়গুলির কোনও উন্নতি হওয়ার আশা দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা।