কোভিড -১৯ মহামারি এবং তা রুখতে জারি করা লকডাউনের জেরে গোটা বিশ্বেই আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। এমনিতে দীর্ঘায়ুদের দেশ হলেও গত ১১ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির পেয়েছে জাপানেও। আর এই সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিল এশিয়ার এই দেশ। মঙ্গলবার তারা চালু করল একাকীত্ব মন্ত্রক। মন্ত্রীর একমাত্র কাজ হবে দেশের মানুষদের একাকীত্ব দূর করা এবং আত্মহত্য়ার প্রবণতা দূর করা।

তবে একাকীত্ব মন্ত্রক জাপানেই প্রথম চালু হল তা নয়, ২০১৮ সালেই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এই মন্ত্রক তৈরি করেছিল যুক্তরাজ্য। জাপানের স্থানীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদেরই উদাহরণ অনুসরণ করেছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইওশিহিদে সুগা। চলতি মাসের গোড়াতেই তিনি তাঁর মন্ত্রিসভায় একাকীত্ব মন্ত্রক-কে সংযুক্ত করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার, তেতসুশী সাকামোটোকে এই মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   

তেতসুশী সাকামোটো, এর আগেই জাপানের জন্মহারের পতন রোধের এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর সাকামোটো বলেছেন, ধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বিশেষ করে তাঁকে মহামারীকালে মহিলাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির মতো সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে এই বিষয়ে একটি বিস্তৃত কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সুগা। সামাজিক একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা রোধে এবং মানুষে-মানুষে সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য বিবিধ কার্যক্রম করবে তাঁর মন্ত্রক, এমনটাই জানিয়েছেন সাকামোটো।

শুধু একটি পৃথক মন্ত্রক তৈরিই নয়, জাপানি সরকার গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা ও শিশু দারিদ্র্যের মতো সমস্যাগুলির মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আওতায় একটি বিচ্ছিন্নতা / নিঃসঙ্গতা প্রতিরোধি কার্যালয়-ও স্থাপন করেছে। বস্তুত ভারতেও মহামারির সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের মতো সেলিব্রিটি থেকে একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত - তালিকায় রয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। সামাজিক নিঃসঙ্গতার সমস্যাকে এখন আর অবজ্ঞা করা যাচ্ছে না। জাপানের উদাহরণ অনুসরণ করবে কি মোদী সরকার, সেটাই এখন দেখার।