তিন মিনিটে চুরি গেল মধ্যরাতে দশ মিলিয়ন ইয়েন অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি। গত সপ্তাহে ঠিক 'নিনজা'দের কায়দাতেই মধ্য জাপানের ইগা শহরে অবস্থিত ইগা-রিউ নিনজা যাদুঘরে এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটল। জাপানি নিনজা যোদ্ধারা তাদের লুকিয়ে থাকার দক্ষতার জন্য বিশেষ খ্যাত। আক তাদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র থেকেই পুলিশের নজর এড়িয়ে ঘটে গেল এমন চুরি।

পুলিশ জানিয়েছে সেই সময়ে যাদুঘরে কোনও কর্মী ছিল না। অ্যালার্ম বাজার শব্দ শুনে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। যাদুঘরের প্রবেশদ্বার ভাঙা ছিল। আর যাদুঘরের ১৫০ কেজি ওজনের সিন্দুকটি একেবারে ফাঁকা। যেখানে হাজার হাজার দর্শনার্থীর প্রবেশমূল্য জমা রাখা হত। স্থানীয় পুলিশের সন্দেহ, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেই এই চুরি করা হয়েছে এবং সম্ভবত খবর পেয়ে পুলিশ আসার পরও ওই এলাকারি কোথাও তারা ঘাপটি মেরে ছিল, সুযোগ বুঝে পরে পালিয়েছে।

জানা গিয়েছে যাদুঘরটির পিছন দিয়ে একটি জঙ্গল রয়েছে। রাতে সেখানে লুকিয়ে থাকলে খুঁজে বার করা খুব মুশকিল। সম্ভবত তারই সুযোগ নিয়েছে চোরের দল। যাদুঘরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি থেকে চুরির রাতের ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে একটি গাড়িকে যাদুঘর ভবনের সামনে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে। তা থেকে নেমে এক ব্যক্তি ক্যামেরাগুলির দিকে এগিয়ে এসে তাদের মুখ মাটির দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এইটুকু ছাড়া পুলিশের হাতে চোর ধরার আর কোনও সূত্র নেই।

জাপানে এখন করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গ আছরে পড়েছে। কিন্তু তারমধ্য়েও সাবধানতা নিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। গ্রীষ্মের ছুটির দিনে দর্শনার্থীরা যাদুঘরে ফিরতেও শুরু করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তার শুরুতেই এই কাণ্ড ঘটেছে।

অন্তত চৌদ্দশ শতক জাপানের নিনজা যোদ্ধাদের কথা শোনা যায়। গোপনীয়তায় বিশেষ দক্ষতার জন্য, নিনজারা গুপ্তচরবৃত্তি, নাশকতা, হত্যাকাণ্ড এবং গেরিলা যুদ্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। ভাড়াটে খুনি হিসাবেও তাদের ব্যবহার করা হত বলে শোনা যায়। বহু শতাব্দী ধরে তাদের ঘিরে বহু কিংবদন্তি তৈরি হয়েছে। ইগা শহরটির নামও, নিনজাদের ইগা বংশের ঘাঁটি থেকে এসেছে। প্রতি বছর, ইগা শহরে একটি বড় নিনজা উত্সবও পালন করা হয়।