একে একে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে বন্ধু রাষ্ট্ররাষ্ট্রগুলি। কিছুটা হলেও একঘরে হতে চলেছে চিন। কারণ এবার থাইল্যান্ডের কারণে রীতিমত ধাক্কা খেতে চলেছে দক্ষিণ চিন সাগরে একক আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা।  যে স্বপ্নে এতদিন বিভোর ছিলেন সি জিংপিং। এবার দেশের মানুষের চাপে পড়ে চিনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার দিকেই পা বাড়িয়েছে থাইল্যান্ড। 

থাইল্যান্ড সরকার শি জিংপিংএর স্বপ্নের পরিকল্পনা ক্রা খাল নিমার্ণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালাক্কা প্রাণালীতে যাওয়ার বিকল্প জলপথ হিসেবে ক্রা খালের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল চিন। 
ক্রা খালঃ  
 থাইল্যান্ডের ইস্টমাসের ক্রা-র  মধ্যে দিয়ে এই জলপথ তৈরির পরিকল্পনা 
 ১২০ কিলোমিটার লম্বা এই খালটিকে দক্ষিণ চিন সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল
 মালয় উপদ্বীপ ও ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার মধ্যেদিয়ে একটি চেকপথ
 যা ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে বিভক্ত করবে
পণ্যাবাহী জাহাজ চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ হবে 
খরচ ও সময় বাঁচাতে পারবে চিন 

 কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মালাক্কা প্রণালী। চিনের ৮০ শতাংস তেল সরবরাহ হয়  মালাক্কা প্রণালী দিয়ে। কিন্তু ভারতের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে যে কোনও সময় ওই প্রণালীর পশ্চিম দিকে অবরোধ তৈরি করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে থাইল্যান্ড ক্রা খাল চাইছে না। এই প্রজেক্ট থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনও লাভ পাবে না সেই দেশটি। উল্টে থাইল্যন্ড মলয় উপদ্বীপ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই পরিবেশগত সমস্যার কারণ থেকেই প্রজেক্ট নাকচ করে দিতে চাইছে থাইল্যান্ড। 
 
একই সঙ্গে থাইল্যান্ড চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে। কারণ অগাস্টেই দুটি চিনা সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল থাইল্যান্ড। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সবদিক বিচেবনা করেছে সেই সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়ছে বলেই থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে চলা মহামারির কারণে বর্তমানে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে থাইল্যান্ডকে। এই পরিস্থিতিতে বাড়ছে জনরোষ। আর সেই আবস্থায় ৭২৪ মিলিয়ন ডলার ব্যায় করে দুটি সাবমেরিন কেনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন সেদেশের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীকে চিনা সাবমেরিন অথবা দেশের বেহাল আর্থিক অবস্থার মধ্যে কোনও একটা বেছে নিতে হবে বলেই আওয়াজ তুলেছেন সেদেশের মানুষ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কিছুটা হলেও সাবমেরিক কেনা থেকে বিরত রয়েছে থাইল্যান্ড। 


এক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের কথায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলি মূলত চিন বিরোধী হয়। কিন্তু যেসব দেশের সরকার চিনপন্থী তাদের স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে পড়তে হয়। চিনকে সাহায্য করার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নেতিবাচক অনড় মনোভাবের জন্যই প্রতিনিয়ত বাধার মুখোমুখি হতে হয়। আর সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে থাইল্যান্ডে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দো প্যাসেফিক এলাকায় একের পর এক বন্ধু হারাচ্ছে চিন। একই সঙ্গে চিন সাগরের জলে তলিয়ে যাচ্ছে শি জিংপিং-এর দক্ষিণ চিন সাগরে আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্ন।