পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু তুরস্ক। বিশেষ করে রিসেপ তাইপ এর্দোগানের শাসন কালে তুরস্ক ধর্মনিরপেক্ষ দেশ থেকে যতই ইসলামি দেশ-এ পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে ততই ইসলামাবাদের সঙ্গে আঙ্কারার দোস্তি বেড়েছে। ট্যাঙ্কার থেকে করভেট বা অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য ইমরান খান-এর দেশের পাশে সর্বদাই দাঁড়িয়েছে তুরস্ক। শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, বিভিন্ন স্তরে ক্রমে সহযোগিতা বাড়ছে দুই দেশের। আর সেই পথেই এখন ভারতের বিরুদ্ধে তুরস্ক একটি তথ্য-যুদ্ধ প্রচার শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দারা দুই মাস আগে তুরস্ক থেকে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ৩ মিনিটের ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও-কে নিদর্শন হিসাবে দেখিয়েছেন। ভিডিওটি ছিল জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক। এখানে বলে রাখা ভালো, জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের ভারত বিরোধী মিথ্যা ভিত্তিহীন প্রচারে যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশই সাড়া দেয়নি, তখন চিন, মালয়েশিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক ইসলামাবাদকে সমর্থন করেছিল। এমনকী চলতি বছরের গোড়াতেই পাকিস্তান সফরের সময় এর্দোগান ভারত সরকারের কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।    

কী রয়েছে ইউটিউবের ওই ভিডিওটিতে? ভিডিওটি ডেলা মাইলস নামে এক সঙ্গীতশিল্পির গাওয়া কাশ্মীর ইস মাই নেম নামে একটি গানের ভিডিও। সেই গানে ভারতের বিরুদ্ধে জম্মু ও কাশ্মীরে 'গণহত্যা', 'অবিরাম অত্যাচার' চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। 'মৃত্যু'-র মতো শব্দ এসেছে অহরহ। আর গোটা ভিডিওটি জুড়ে রয়েছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সেনার উদ্দেশ্যে পাথর বর্ষণ, জঙ্গিদের দেহ নিয়ে স্থানীয়দের মিছিল, বনধের কাশ্মীরে সেনার পদচারণার মতো একপেশে ভারত বিরোধী ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে।

এই ভিডিওটিই তুরস্ক ভারতের বিরুদ্ধে তথ্য-যুদ্ধের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এইরকম আরও প্রোপাগান্ডা ভিডিও সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে মুসলিম বিশ্বকে ভারতের বিরুদ্ধে বিষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাবে তুরস্ক এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবশ্য শুধু এই তথ্য প্রচার যুদ্ধই নয়, ভারত থেকে বিশেষ করে জম্মু কাশ্মীরের বহু মুসলিম যুবককে তুরস্কের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের ভারত বিরোধী মগজ ধোলাই দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। ভারতে সমাজসেমূলক কাজ করার নাম করে এসেও মুসলিম যুব-কিশোরদের নিশানা করা হচ্ছে।