বিষ্ণুপুরাণ অনুযায়ী চলতি সময়টা কলিকাল। এই সময়ে ভগবান বিষ্ণুর কল্কি অবতার-এর পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করার কথা। অন্যদিকে কুর্ম অবতার বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে দ্বিতীয় অবতার। কিন্তু, নেপালের ধনুষ জেলার ধনুষধাম পৌরসভা এলাকায় কি ফের জন্ম নিল ভগবান বিষ্ণুর কুর্ম অবতার?

সম্প্রতি সেখানে জন্ম নেওয়া কাঁচা সোনার রং-এর এক কচ্ছপ-কে ঘিরে এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ। অন্যরা ততটা না বললেও তাঁদেরও বিশ্বাস এই কচ্ছপটির দৈবশক্তি রয়েছে।

তবে সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ কমল দেবকোটা বলছেন, না। এই কচ্ছপটি বিরল বটে, তবে তার কোনও দৈবশক্তি নেই, আর ভগবান বিষ্ণুর অবতার তো নয়ই। তিনি জানিয়েছেন কচ্ছপটির এই রূপ দেখা দিয়েছে জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত অভিযোজনের ফলে। তিনি জানিয়েছেন, কচ্ছপটির সোনালি বর্ণের কারণ ক্রোম্যাটিক লিউসিজম।

কী সেটি?  তিনি জানিয়েছেন লিউকিজম বা রঙ্গক ক্ষয় এক ধরণের জিনগত অভিযোজন যার ফরে ত্বকের রঙ সাধারণত, সাদা বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তবে ক্রোম্যাটিক লিউসিজম-এর ক্ষেত্রে জ্যানথোফোর্স নামে একটি রঙ্গক কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে। এগুলি বস্তুত হলুদ রঙ্গকযুক্ত কোষ। এগুলির সংখ্যাবৃদ্ধির ফলেই ত্বকের রঙ উজ্জ্বল হলুদ বা সোনালি হয়ে যায়। জানা গিয়েছে এই রকম সোনালি রঙের কচ্ছপ জন্ম নেওয়ার ঘটনা এই নিয়ে গোটা বিশ্বের ইতিহাসে পঞ্চমবার নথিভুক্ত করা হল। নেপালে এই ঘটনা প্রথমবার।

তবে কমল দেবকোটার মতে শুধুমাত্র কচ্ছপটির সোনালি রঙই যে তাকে ভগবান বিষঅণুর কুর্ম অবতার ভাবার একমাত্র কারণ তা নয়। বিশ্বের একমাত্র হিন্দু দেশ নেপালে কচ্ছপের উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্য রয়েছে। বিষ্ণুর অবতার রুপে অনের নেপালের অনেক মন্দিরেই কচ্ছপের মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।