রুদ্ধদ্বার বৈঠক হল। কিন্তু ইমরান খানের পাকিস্তান যা চাইছিল, শেষ পর্যন্ত তা হল না। পাকিস্তানের হয়ে চিনের মরিয়া সওয়াল সত্ত্বেও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের আর কোনও সদস্যই কাশ্মীর নিয়ে নাক গলাতে রাজি হল না। ফলে কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ থেকে সরকারি কোনও মন্তব্য বা বিবৃতিও জারি করা হল না। ফলে, কূটনৈতিক লড়াইয়ে তা একদিকে যেমন ভারতের স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল, অন্য দিকে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার প্রত্যাহারের বিরোধিতা করতে গিয়ে ফের বিশ্বমঞ্চে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। 

চিনের মাধ্যমে পাকিস্তান অনেক চেষ্টা করেছিল, যাতে কাশ্মীর প্রসঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের বাকি দেশগুলিও নাক গলায়। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে এক চিন ছাড়া অধিকাংশ দেশই কাশ্মীরকে ভারত- পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলেই এড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

কাশ্মীরের সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমের প্রসঙ্গটি সরকারিভাবে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও চিনের অনুরোধে শুক্রবার তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সদস্য দেশগুলি। সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, চিনের অনুরোধ সত্ত্বেও অগাস্ট মাসের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট দেশ হিসেবে কোনও বিবৃতি জারি করতে রাজি হয়নি পোল্যান্ড। ওই সূত্রটিই সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছে, বিবৃতি জারির বিষয়ে চিনকে সমর্থন করেছিল যুক্তরাজ্যও। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরাই জানিয়ে দেন, ভারত এবং পাকিস্তানকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে হবে। 

শেষ পর্যন্ত নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়ায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের শেষে কাশ্মীর নিয়ে চিনের প্রতিনিধি  একাই সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এর পরে পাকিস্তানের দূত মালিহা লোধিও সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। পাল্টা রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের দূত সৈয়দ আকবারউদ্দিন দাবি করেন, নিজেদের মতামতকে যে যদি গোটা বিশ্বের বলে চালানোর চেষ্টা করে চিন এবং পাকিস্তান, তাহলে দিল্লির বক্তব্যও উপযুক্ত সময়ে তুলে ধরা হবে। 

সংবাদসংস্থার দাবি অনুযায়ী, কোটে ডি আইভরি, ডোমেনিকান রিপাবলিক, জার্মানি, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়ার মতো নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলি এই প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানকেই সমর্থন করেছে। কাশ্মীর নিয়ে  বিবৃতি জারি করার জন্য চিন যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছিল, তা বাকি সদস্য দেশগুলি ভালভাবে নেয়নি বলেই সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে সংবাদসংস্থা।