ইমরান খানকে সমস্যায় ফেলে দিল ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের লস্কর-ই-জাঙ্গভি'র মতো আরও সাতটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবা'কেও বিদেশী সন্ত্রাসবাদী সংস্থা (এফটিও)-র তালিকাতেই রেখে দিয়েছে। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আমেরিকা লস্কর-ই-তৈবা'কে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসাবে ঘোষণা করেছিল।

সম্প্রতি, এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য একের পর এক পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছে ইমরান সরকারকে। গ্রেফতার করা হয়েছে লস্করের শীর্ষ কমান্ডার জাকিউর রহমান লকভি-কে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার-এর নামেও। কিন্তু, তারপরও লস্কর-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকাতেই রেখে দিল মার্কিন বিদেশ দফতর। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, ইসলামাবাদের নেওয়া সব পদক্ষেপই আসলে 'কসমেটিক', লোক দেখানো। সেইসব সত্ত্বেও লস্কর বা অন্যান্য পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্তে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

পরের মাসেই ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রোধে পাকিস্তানের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। তার ঠিক আগে মার্কিন বিদেশ দফতরের এই পদক্ষেপ ইমরান খানের মাথাব্যথা যে বাড়াতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এর আগে ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রোধে তারা তাদের আইনের ফাঁকগুলি মেরামত করতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই তাদের এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকা থেকে উন্নীত করা উচিত।

অতি সম্প্রতি পাকিস্তানে গ্রেফতার করা হয়েছে লস্কর শীর্ষ কমান্ডার জাকিউর রহমান লকভি-কে

তাদের সঙ্গে অবশ্য একমত হয়নি এই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নজরদারি সংস্থা। ২০২০ সালের অক্টোবরে এফএটিএফ-এর প্রেসিডেন্ট মার্কাস প্লেয়ার ফল্টে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণে চিরকালের জন্য সময় নেওয়া যাবে না। এরপরও যদি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান তাহলে তাদের কালো তালিকা ভুক্ত করা হবে। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান ব্যর্থ বলে চিহ্নিত করে ২০১৫ সালে পরথমবার এফএটিএফ পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় রেখেছিল।