শুক্রবার ভুটানের প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেল। তবে রোগী কোনও ভুটানি নাগরিক নন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা একজন ৭৬ বছরের পর্যটক। এরপরই আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ভুটানে সমস্ত পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো ভুটান। তাদের জাতীয় বিমান সংস্থা ড্রুক এয়ারের বিমানও দুই সপ্তাহের জন্য বাতিল করা হল। তবে যেটা সবচেয়ে ভয় ধরানো তথ্য, তা হল দিন কয়েক আগেই ওই মার্কিন পর্যটক এসেছিলেন কলকাতাতে।

ভুটান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসি থেকে রওনা হয়েছিলেন তিনি। ২১ ফেব্রুয়ারি মুম্বই পৌঁছান। সেখানে কদিন কাটিয়ে পারি দিয়েছিলেন কলকাতায়। সেখান থেকে যান অসমে। গুয়াহাটি থেকে গত ২ মার্চ ওই মার্কিন নাগরিক ড্রুক এয়ারের বিমানে ভুটানের পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে এক সঙ্গিনীও রয়েছেন তাঁর বয়স ৫৯। এছাড়া ড্রুকের বিমানে আরও আট জন ভারতীয় পর্যটক ছিলেন।

পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই তাঁদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঘোষণার ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আক্রান্ত পর্যটক জানিয়েছিলেন তাঁর জ্বর, শ্বাসকষ্ট-সহ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও লক্ষণই নেই। কিন্তু থিম্পু পৌঁছেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পেট ফেঁপে যায়, এবং বমি-বমি ভাব হতে শুরু করে। তবে সেই সময়ও তাঁর কোনও জ্বরের লক্ষণ ছিল না। কিন্তু, পরের দিন প্রবল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেননি তিনি।

কিন্তু তারপর দিনই জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট-সহ কোভিড-১৯'এর লক্ষণ দেখা যেতে শুরু করে। তাকে ফ্লু ক্লিনিক-এ ভর্তি করা হয় এবং নমুনা সংগ্রহ করে রয়্যাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-এ পাঠানো হয়। এদিন সকালে সেই পরীক্ষায় রিপোর্ট ইতিবাচক আসতেই তাঁকে হাসপাতালে বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, ওই পর্যটক যে যে জায়গায় গিয়েছেন, যাদের সঙ্গে তার সংযোগ হয়েছে তাদের খোঁজ চলছে। তাঁদের সকলের পরীক্ষা করা হবে। তাঁর সঙ্গিনী, তাদের ড্রাইভার এবং গাইড-এর ইতিমধ্যেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের আপাতত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ভুটানে আসা আট ভারতীয় যাত্রীকেও আলাদা ভাবে রাখা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ভুটান সরকার জানিয়ে দিয়েছে অবিলম্বে সেই দেশে পর্যটকদের প্রবেশে দুই সপ্তাহের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। দুই সপ্তাহের জন্য সেই দেশে যেসব আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল, সেগুলিও স্থগিত রাখা হয়েছে। দুই সপ্তাহ পরে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।