নিরামিষাশীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয় নেই। বিশ্বে এখনও পর্যন্ত একজনও নিরামিষভোজী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি, কারণ ভাইরাসটির বেঁচে থাকার জন্য শরীরে প্রাণীজ চর্বির প্রয়োজন হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে এই কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করা বেশ কয়েকটি বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ইংরাজী, হিন্দি, বাংলা - অনেক ভাষাতেই প্রায় একইরকম দাবি সম্বলিত বার্তা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনও কোনও বার্তায় আবার এর জন্য 'সনাতন সংস্কৃতি'র গুণগান গাওয়া হয়েছে। কোনও বার্তায় দেখা যাচ্ছে হু-এর প্রতিনিধি বলছেন, 'মানুষ যতদিন মাংস খাবে, রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে'।

সত্যিই কি তাই? না, এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট তন্য তন্য করে খুঁজে দেখা হয়েছে, কিন্তু, কোথাও দেখা যায়নি, 'হু' -এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস নিরামিষাশীদের ক্ষতি করতে পারে না, কারণ বেঁচে থাকার জন্য এর মানব শরীরে প্রাণীজ চর্বির প্রয়োজন। নিরামিষাশীরা করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণও কোথাও পাওয়া যায়নি। বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময় প্রাপ্তবয়স্কদের পুষ্টিরর জন্য প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি মাংস ভক্ষণ নিয়ে ওই মন্তচব্য করেছিলেন সেটাও ঠিক। তবে সেই মন্তব্যের আগে পরের কথাগুলি ছিল অন্য। তিনি বলেছিলেন, এই সময়ে সাধরণত প্রাণীসম্পদ হিসাবে চিহ্নিত পশুদের বাইরে অন্য কোনও পশুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা। ডাব্লুএইচও-র মতে, তাঁরা কোনও নির্দিষ্ট মানব গোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাসকে নিন্দা করছে না। বণ্যপ্রাণী থেকে মানুষের দেহে যেভাবে সংক্রামক রোগ ছড়াচ্ছে, তাতে তারা গোটা বিশ্বেই প্রাণীসম্পদ-এর একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করতে চাইছে। প্রাণিসম্পদকে একটি নির্দিষ্ঠ স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সেটা ছাড়া মানুষ মাংস খেতে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকবে, কারণ বিক্রির সময় মানুষ সেই প্রাণীর সংস্পর্শে আসবে। তার সঙ্গে মাংস খাওযা- না খাোয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।

অর্থাৎ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কখনই কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে আমিষ খেতে বারণ করেনি বা বলেনি নিরামিষাশীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই। বরং তারা আরও বেশি করে মাংস বা প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণের পরমর্শ দিয়েছে। কাজেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নাম জড়িয়ে এই সংক্রান্ত যে দাবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় করা হচ্ছে, তা একেবারেই ভুয়ো।