জন হফকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৩ কোটি ৬৭ হাজার ৭৫৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৬ জন। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার তালিকায় প্রথম তিন দেশ যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ব্রাজিল। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে ইউরোপের দেশগুলোতে ভয়াবহ রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল করোনা  ভাইরাস। জুলাই-অগাস্টের দিকে সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখন আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।

ইউরোপে আসন্ন শীতে পরিস্থিতি আবারও মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা ঠেকাতে ইউরোপের দেশগুলোর সরকার নানা ব্যবস্থার কথা আগাম ভাবছে। যুক্তরাজ্যের সরকার আবারও স্বল্প মেয়াদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং চলাচলেও উপর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে।

রোগী শনাক্তের দিক দিয়ে তালিকায় এক নম্বরে আছে আমেরিকা। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৬৬ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৩ জন। যদিও গত জুলাইয়ের পর দেশটিতে দৈনিক রোগী শনাক্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'-র  ইউরোপিয় কার্যালয়ের মহাপরিচালক হ্যানস ক্লুজ জানিয়েছেন, ইউরোপে গত মার্চে মহামারি  প্রথমবার চূঁড়ায় উঠেছিল, বর্তমানে সাপ্তাহিক আক্রান্তের সংখ্যা তখনকার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ইউরোপে  সাপ্তাহিক রোগীর সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের অর্ধেকের বেশি দেশে গত দুই সপ্তাহে ১০ শতাংশ নতুন রোগী বেড়েছে। এর মধ্যে সাতটি দেশে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।’

হু’র এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বসন্তে ও গ্রীষ্মের শুরুতে আমরা কঠোর লকডাউনের প্রভাবে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দেখতে পেয়েছিলাম। আমাদের চেষ্টা, আমাদের ত্যাগের মূল্য পেয়েছিলাম। জুনে সংক্রমণ ছিল যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। এখন সেপ্টেম্বরে সংক্রমণের সংখ্যা দেখে আমাদের সবার আরও সচেতন হওয়া উচিত।’

সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইউরোপে ৫০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে এখনো বেশিরভাগই ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী যুবক। গত বঠর ডিসেম্বরে চিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর কিছুদিন পরেই এর দ্বিতীয় হটস্পট হয়ে উঠেছিল ইউরোপ। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় মাস দুয়েক আগে অঞ্চলটির বেশিরভাগ দেশই লকডাউন শিথিল করে পুনরায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে। তারপরেই গত কয়েক সপ্তাহে আবারও আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কঠোর বিধিনিষেধ ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ।ইউরোপে করোনায় এখন পর্যন্ত পর্যন্ত প্রায় ৪৯ লাখ মানুষ আক্রান্ত এবং ২ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মারা গেছেন।