Fattah 2 Hypersonic Missile: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এবার 'ব্রহ্মাস্ত্র' প্রয়োগ করল ইরান। শব্দের গতির প্রায় ১৫ গুণ গতিবেগের, প্রতি ঘণ্টায় ১৮,৫০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ছুটতে পারা হাইপারসনিক মিসাইল এবার ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করল তেহেরান।

Fattah 2 Hypersonic Missile: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এবার 'ব্রহ্মাস্ত্র' প্রয়োগ করল ইরান। শব্দের গতির প্রায় ১৫ গুণ গতিবেগের, প্রতি ঘণ্টায় ১৮,৫০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ছুটতে পারা হাইপারসনিক মিসাইল এবার ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করল তেহেরান। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রতিশোধ নিতে ইরান প্রথমবারের মতো যুদ্ধে তাদের 'ফাত্তাহ-২' হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর অংশ হিসেবে 'ফাত্তাহ-২' ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি দাবি, এই অভিযানে ইজরায়েলের বিভিন্ন পরিকাঠামো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

কতটা ভয়াবহ এই হাইপারসনিক মিসাইল

ইরানের রাষ্ট্রীয় নিয়য়ন্ত্রিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও সম্ভাব্য গতিপথের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ফাত্তাহ -২ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার বলে জানা গিয়েছে। ফলে ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হলেও, এটি দূরবর্তী মহাদেশে আঘাত হানার উপযোগী নয়। প্রথমবারের মতো সক্রিয় যুদ্ধে 'ফাত্তাহ-২' ব্যবহারের দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তিকে বাস্তব সংঘাতে প্রয়োগের পথে এগোচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামগ্রিক সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষত আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

কেন এত বিপজ্জনক

'ফাত্তাহ-২'কে আগের 'ফাত্তাহ-১'-এর উন্নত সংস্করণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এতে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল বা HGV প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে, যা উড্ডয়নের সময় ক্ষেপণাস্ত্রকে অধিক গতিশীলতা ও দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা দেয়। ইরানের দাবি, 'ফাত্তাহ-২' সর্বোচ্চ ম্যাক ১৫ (শব্দের গতির প্রায় ১৫ গুণ) পর্যন্ত গতি অর্জন করতে সক্ষম। অর্থাৎ প্রায় ১৮,৫০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বা ১১ হাজার থেকে ১১ হাজার ৫০০ মাইল প্রতি ঘণ্টারও বেশি বেগে এটি ছুটতে পারে। এই উচ্চগতির কারণে প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো অত্যন্ত কঠিন বলে দাবি তেহরানের।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞরা মতে, ইরান দাবি করেছে যে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এর পূর্ণ সামরিক কার্যকারিতা ও সাফল্যের হার নিয়ে পশ্চিমা সূত্রে এখনও প্রশ্ন রয়েছে এবং সব দাবি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। প্রথমবারের মতো সক্রিয় যুদ্ধে 'ফাত্তাহ-২' ব্যবহারের দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তিকে বাস্তব সংঘাতে প্রয়োগের পথে এগোচ্ছে।