মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাক্তন আর্মি মেজর নিদাল মালিক হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে ৬৫ বছর পর মার্কিন সেনার কোনো অফিসারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে।

নিউ ইয়র্ক: আমেরিকাকে কাঁপিয়ে দেওয়া সেই শ্যুটআউটের ঘটনায় প্রাক্তন সেনা অফিসারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমতি মিলল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাক্তন আর্মি মেজর নিদাল মালিক হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে (Firing Squad) মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে ৬৫ বছর পর মার্কিন সেনার কোনো অফিসারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে।

মার্কিন সেনার সাইকিয়াট্রিস্ট নিদাল মালিক টেক্সাসের ফোর্ট হুডে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে খুন করেছিল। এই ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৯ সালে। এরপর কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার হয় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নিদাল মালিক জানিয়েছিল, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা পাঠানো আটকাতেই সে এই হামলা চালিয়েছিল। তার দাবি ছিল, মুসলিমদের খুন করার জন্যই আমেরিকা আফগানিস্তানে সেনা পাঠাচ্ছে। বিচারের সময় সে নিজের কোনো অপরাধ অস্বীকার করেনি। সে নিজেকে দলবদল করা এক সেনা হিসেবেই দাবি করেছিল।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, নিদাল মালিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তারিখ ও সময় ঠিক করবেন আর্মি সেক্রেটারি। তবে প্রেসিডেন্ট মৃত্যুদণ্ডের অনুমতি দিলেও নিদাল মালিক ফেডারেল আদালতে এর বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারে। সে যদি আদালতের দ্বারস্থ হয়, তবে এই সাজা কার্যকর হতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

মার্কিন সেনা শেষবার কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল ১৯৬১ সালে। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা মার্কিন সেনায় খুবই বিরল। ১৯৬১ সালে মার্কিন আর্মি প্রাইভেট জন এ. বেনেটকে শেষবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১১ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণের অপরাধে তার এই সাজা হয়। এরপর ২০০৮ সালে রোনাল্ড গ্রে নামের আরেক সেনা অফিসারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। কিন্তু পরে আদালত সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। রোনাল্ড গ্রে এবং নিদাল মালিক দুজনেই বর্তমানে কানসাসের সামরিক জেলে বন্দি রয়েছে।