হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যেই এবার লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হওয়ায় সম্ভাব্য অবরোধে তেল ও পণ্য পরিবহনে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীর পরে এবার কি ইরান বন্ধ করে দেবে লোহিত সাগরও? সেই প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা মত সেন্টিকম অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়ান করা মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড যদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালায় তাহলে তার পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান। আর সেই কারণেই লোহিত সাগরে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ করতে বড় পদক্ষেপ করেছে তেহরান। ইতিমধ্যেই ইয়েমেনের শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিকে নির্দেশ দিয়েছে লোহিত সাগরে অবরোধ করতে। তেমনই দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা।
হুথি বাহিনী প্রস্তুত লোহিত সাগরে
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী তেহরানের বার্তা পেয়েই ইয়েমেনের লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের কাছে একটি পাহাড়ি অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করাহয়েছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে যে জাহাজগুলি চলবে সেগুলিতে হামলা চালানোর পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে ইরান। এই কাজে ইরান পরোক্ষভাবে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে কাজে লাগাচ্ছে। হুথি বাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে ইরান। তেহরানের নির্দেশের অপেক্ষা লোহিত সাগরে যুদ্ধের দামামা বাজাতে প্রস্তুত রয়েছে হুথি। তবে এখানে হামলা হলে বিশ্বজুড়ে তেহবাহী জাহাজ চলাচলে বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি
সৌদি আরবের মদতপুষ্ঠ ইয়েমেন সরকারের সেনা বহু বছর ধরেই ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে। ২০২৩ সালে অক্টোবরে গাজায় সংঘর্ষ শুরুর পরেই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল হুথিরা। সেই সময়ে ইজরায়েল হুথিদের ডেরা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী চলতি বছর গোড়ার দিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। সৌদি মদতপুষ্ঠ ইয়েমেনের সুন্নি মুসলিম গোষ্ঠীর সরকারও শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালালেও রাজধানী সানা-সহ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পর্যন্ত হুথদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি-হুথি লড়াই একাধিকবার হয়েছে। রয়টার্স সূত্রের খবর এবার লোহিত সাগরে সম্ভাব্য অবরোধের বিষয়টি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে হুথি নেতাদের একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।


