Israel Strikes: ইজরায়েলি বায়ুসেনা তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ব্যবহৃত একটি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, এই বিমানটি ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তেহরানে বড়সড় হামলা চালাল ইজরায়েলি বায়ুসেনা (IsAF)। তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যবহৃত একটি বিমানকে নিশানা করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইরানের কৌশলগতভাবে বড় ক্ষতি হল বলে মনে করা হচ্ছে।
আলি খামেনেইর বিমান উড়িয়ে দিল ইজরায়েল
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে ইজরায়েলি বায়ুসেনা এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, "তেহরানের 'মেহরাবাদ' বিমানবন্দরে ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসনের সর্বোচ্চ নেতার বিমানটি ধ্বংস করা হয়েছে।" এই বিমানটি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি, শাসকদলের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিক এবং ইরানের সামরিক কর্তারা ব্যবহার করতেন। এটি তাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম ছিল।
ইজরায়েলি বায়ুসেনার মতে, এই বিমানটি "সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং অক্ষশক্তিভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার" জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। দেশের ভিতরে এবং বাইরে, দুই ক্ষেত্রেই বিমানটি ব্যবহার করা হত। তাই তেহরান এবং তার সহযোগী দেশগুলোর মধ্যেকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধাক্কা দেওয়াই ছিল এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য।
সামরিক আধিকারিকদের কথায়, "এই বিমানটি ধ্বংস হওয়ার ফলে ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসকগোষ্ঠী এবং অক্ষশক্তিভুক্ত দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষমতা কমে যাবে। এর ফলে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নিজেদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও ধাক্কা খাবে।"
ইজরায়েলের সাফল্য
এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানটি ধ্বংস করে ইজরায়েল ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্ককে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। তাদের কথায়, "ইরানি শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে আরও একটি কৌশলগত সম্পদ কেড়ে নেওয়া হল।"
এই হাই-প্রোফাইল হামলাটি আসলে একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ। রবিবার (স্থানীয় সময়) ইজরায়েলি বায়ুসেনা (IAF) জানায়, গত একদিনে তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের ২০০টিরও বেশি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। মূল নিশানা ছিল ইরানের সামরিক পরিকাঠামো, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং অপারেশনাল হেডকোয়ার্টারও রয়েছে।
এক্স-এ একটি পোস্টে IAF এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। তারা লেখে, "গত একদিনে বায়ুসেনা পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ২০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশানা করে হামলা জারি রয়েছে।"
সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে এই লক্ষ্যবস্তুগুলির মধ্যে ছিল "সেইসব হেডকোয়ার্টার, যেখান থেকে ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসনের সেনারা কাজ চালাত, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন ও মজুত করার জায়গা।"
এই হামলাগুলি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল নেটওয়ার্ক এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে নিশানা করে চালানো একটি ধারাবাহিক অভিযানের অংশ। এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য ইজরায়েল তাদের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। বায়ুসেনা তাদের স্টিলথ ফাইটার জেটের ইরানের দিকে উড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও এক্স-এ শেয়ার করেছে। পোস্টে বলা হয়েছে, "সে আদির, এবং সেও ইরানের পথে। হামলা চালানোর জন্য ইরানের দিকে যাওয়া F-35I জেটের বিশেষ ডকুমেন্টেশন।" এখানে 'আদির' বলতে লকহিড মার্টিন F-35I আদির এয়ারক্র্যাফ্টের কথা বলা হয়েছে। এই বিশেষ জেটগুলির ব্যবহার এটাই প্রমাণ করে যে ইজরায়েলি বায়ুসেনার এই অভিযান কতটা জটিল এবং সুদূরপ্রসারী।


