মার্কিন স্পেশাল এনভয় স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার দোহায় থাকলেও ইরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো কথা বলছেন না। মঙ্গলবার কাতার সরকার জানিয়েছে, তাঁরা মধ্যস্থতাকারী এবং কাতারের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছেন। 

মার্কিন মুলুকের দুই বড় কর্তা এখন কাতারের রাজধানী দোহায়। কিন্তু তাঁরা কি ইরানের সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে এসেছেন? এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কাতার সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, ব্যাপারটা মোটেও তেমন নয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মার্কিন স্পেশাল এনভয় স্টিভ উইটকফ এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার দোহায় এসেছেন ঠিকই, তবে তাঁদের এই সফরের উদ্দেশ্য ভিন্ন। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি একটি সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তারই অংশ হিসেবে এই সফর।

আল-আনসারি বলেন, "মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার দোহায় এসেছেন মধ্যস্থতাকারী ও কাতারের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে। ইরান-সহ অঞ্চলের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই কথা হবে।" তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "তাঁরা এখানে ইরানিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য আসেননি।"

কিছুদিন আগেই স্কিটানল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ১৪-দফার একটি চুক্তি হয়েছিল। সেখানে ঠিক হয়, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি তৈরি হবে।

আল-আনসারি স্পষ্ট করে দেন, এখন যে আলোচনা চলছে, তা উচ্চ-পর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠক নয়, বরং প্রযুক্তিগত স্তরের কথাবার্তা। তিনি বলেন, "টেকনিক্যাল টিমগুলোই দোহা এবং অন্যান্য জায়গায় যাতায়াত করছে। এই টেকনিক্যাল বিষয়গুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই মূলত মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "এটা কোনো উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল নয়, যেমনটা আমি আগেই বলেছি; এটা আলোচনার টেকনিক্যাল দিক।" আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে এই টিমগুলো দোহা এবং অন্যান্য জায়গার মধ্যে যাতায়াত করে।

আল-আনসারি এও জানান যে, এই আলোচনার জন্য অদূর ভবিষ্যতে কোনো সিনিয়র বা উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের দোহা সফরের পরিকল্পনা নেই।

ইরানের আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যাপারে কাতারের এই আধিকারিক জানান, সেই টাকা এখনও তেহরানকে পাঠানো হয়নি। আলোচনার অগ্রগতির ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তিনি বলেন, "আলোচনা কতটা এগোচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই" এই অর্থ ছাড়ার বিষয়টি এগোবে। অর্থাৎ, গোটা আর্থিক ব্যবস্থাটাই কূটনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত।