রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ এবার আরও ছড়াল। একদিকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক জনের মৃত্যু এবং পাঁচ জনের আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, মহাকাশে মার্কিন বাণিজ্যিক রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইটের অত্যন্ত কাছে পৌঁছে গিয়েছে রাশিয়ার সামরিক স্যাটেলাইট
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ এবার আরও ছড়াল। একদিকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক জনের মৃত্যু এবং পাঁচ জনের আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, মহাকাশে মার্কিন বাণিজ্যিক রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইটের অত্যন্ত কাছে পৌঁছে গিয়েছে রাশিয়ার সামরিক স্যাটেলাইট। এই দুই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। রবিবার, ১৮ অক্টোবর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ। হামলার জেরে শহরের একাধিক এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেল টার্মিনাল, একটি তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং শিল্পাঞ্চলের একাধিক গুদাম। রুশ ই-কমার্স সংস্থা ওজনের (Ozon) একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রেও আগুন লাগে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে রুশ প্রযুক্তি সংস্থা ভিকে-র (VK) একটি ডেটা সেন্টারেও ড্রোন হামলার খবর সামনে এসেছে। সংস্থাটির দাবি, হামলার পরেও পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়।
মহাকাশে মার্কিন স্যাটেলাইটের কাছে রুশ সামরিক উপগ্রহ
পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উপরে মহাকাশেও রাশিয়ার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক স্যাটেলাইট কসমস-২৬১২ (Cosmos-2612) বারবার নিজের কক্ষপথ পরিবর্তন করে মার্কিন বাণিজ্যিক রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইট ICEYE-X36-এর অত্যন্ত কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলে বিভিন্ন স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। মহাকাশ বিশেষজ্ঞ মার্কো ল্যাংব্রুকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর রাতে দুই স্যাটেলাইটের মধ্যে দূরত্ব কমে প্রায় ১-২ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছিল। মহাকাশে দ্রুতগতিতে ঘুরতে থাকা দুটি সক্রিয় স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে এত কাছাকাছি অবস্থান যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তবে স্যাটেলাইট দুটির মধ্যে সংঘর্ষ বা সরাসরি হামলার কোনও নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ICEYE-X36?
ICEYE-X36 একটি বাণিজ্যিক রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইট। এর সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (SAR) প্রযুক্তির সাহায্যে মেঘ ও অন্ধকারের মধ্যেও পৃথিবীর পৃষ্ঠের ছবি তোলা সম্ভব। এই ধরনের ছবি সামরিক পরিকাঠামো, সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ICEYE-র স্যাটেলাইট পরিষেবা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এই স্যাটেলাইটের কাছে রাশিয়ার সামরিক উপগ্রহের পৌঁছে যাওয়া নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠছে। তবে ICEYE-X36-ই সরাসরি ইউক্রেনকে তথ্য সরবরাহ করছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত তথ্য সীমিত।
মহাকাশে কি নতুন সংঘাতের আশঙ্কা?
একটি স্যাটেলাইট অন্যটির কাছাকাছি পৌঁছনোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কক্ষপথ পরিবর্তন করলে তাকে ‘রেন্ডেভু অ্যান্ড প্রক্সিমিটি অপারেশন’ (RPO) বলা হয়। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা স্যাটেলাইট পরিদর্শনের কাজে এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইটের সম্মতি ছাড়া এমন ঘনিষ্ঠ অবস্থান তৈরি হলে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কসমস-২৬১২-এর গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্যাটেলাইটটির আচরণ নিছক কাকতালীয়, নাকি নজরদারির পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কোনও স্যাটেলাইটের ক্ষতি হলে মহাকাশে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষ অন্য উপগ্রহের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।






