চুক্তিবদ্ধ কোনো দেশের ওপর হামলা হলে বাকিদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সব হামলার ক্ষেত্রে একই রকম সামরিক জবাব দিতে হবে কি না, তা চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। সদস্য দেশগুলোর সামরিক ক্ষমতা ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে এই সাহায্য।

রিয়াদ: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্প্রতি 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' সই করেছে। এবার সেই চুক্তির প্রধান শর্তগুলো প্রকাশ্যে এল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চুক্তিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, চুক্তিতে সই করা দেশগুলোকে অন্তত ১০ বছর এর আওতায় থাকতে হবে। এরপর কোনো দেশ যদি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তবে তাকে তিন মাস আগে নোটিশ দিতে হবে।

এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে ধরে নেওয়া হবে। কোনো দেশ আক্রান্ত হলে বাকি সদস্যদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে হবে। তবে সব হামলার ক্ষেত্রে একই রকম সামরিক পদক্ষেপ নিতে হবে কি না, তা চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে বলা নেই। সদস্য দেশগুলো তাদের নিজস্ব পরিস্থিতি ও সামরিক ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই সাহায্য করবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত ৭ আগস্ট রিয়াদে এই চুক্তিতে সই করেন। তুরস্ক ইতিমধ্যে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তাদের পার্লামেন্টে পেশ করেছে। বর্তমানে সৌদির ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার আবহে এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অক্টোবরের শুরুতে রিয়াদে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদিকে সামরিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, সৌদিকে যেকোনো ধরনের সাহায্য করতে তারা প্রস্তুত। তুরস্কের আধিকারিকরাও সৌদিকে সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করার কথা জানিয়েছেন। তবে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য তারা নিজেদের সেনা পাঠাবে না।