Spain Train Fire Video: স্পেনে মাদ্রিদ থেকে ফিগুয়েরেসগামী 'রেনফে' (Renfe)-র একটি দ্রুতগামী 'এভিই' (AVE) হাই-স্পিড ট্রেনে হঠাৎই আগুন ধরে যায়।সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে নাগাদ জারাগোজা প্রদেশের রিকলার কাছে ট্রেনের পিছনের ইঞ্জিনে প্রথম আগুন লাগে।

Spain Train Fire Video: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। মাদ্রিদ থেকে ফিগুয়েরেসগামী 'রেনফে' (Renfe)-র একটি দ্রুতগামী 'এভিই' (AVE) হাই-স্পিড ট্রেনে হঠাৎই আগুন ধরে যায়। গতকাল, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটে নাগাদ স্পেনের জারাগোজা প্রদেশের রিকলার কাছে ট্রেনের পিছনের ইঞ্জিনে প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে পিছনের পাওয়ার কারটি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে এবং কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। আগুনের শিখা ট্রেনের সবচেয়ে কাছের যাত্রীবাহী কামরাটিতেও আংশিক ক্ষতি করে।

২৮৩ জন যাত্রীর কী হল

তবে চালক ও রেল কর্মীদের তৎপরতায় তড়িঘড়ি নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে ট্রেনে থাকা ২৮৩ জন যাত্রীর সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বড় সড় কোনো হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ধোঁয়ার কারণে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেওয়ায় এক মহিলা এবং এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে যাত্রীরা নিজেরাই একটি মানব শৃঙ্খল (Human Chain) তৈরি করে অগ্নিকাণ্ডগ্রস্ত ট্রেনের ভেতরের থেকে নিজেদের লাগেজ বাইরে বের করে আনেন। জারাগোজা প্রাদেশিক কাউন্সিলের দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

তছনছ ট্রেন চলাচল, বিপর্যস্ত যাত্রী পরিষেবা

এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে মাদ্রিদ-বার্সেলোনা সংযোগকারী হাই-স্পিড রেল রুটটি উভয় দিকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাতীয় ছুটির দিন (পুয়েন্তে দেল পিলার) কাটিয়ে ফেরার মূল সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটায় চরম বিপাকে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ট্রেন চলাচল পুরো থমকে থাকার পর, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ একটি মাত্র ট্র্যাকে আংশিকভাবে ট্রেন চালানো শুরু হয়।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩৩টি ট্রেন এই দুর্ঘটনার কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। কেবল 'রেনফে'-রই প্রায় ১২ হাজার ৯৭৯ জন যাত্রী আটকে পড়েন। অন্য প্রতিযোগী সংস্থা 'ইরিয়ো' (Iryo) এবং 'উইগো' (Ouigo)-র পরিষেবা মিলিয়ে প্রভাবিত যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গুয়াদালাহারা, কালাতায়ুদ, জারাগোজা এবং লেইদার মতো মধ্যবর্তী স্টেশনগুলিতে একাধিক ট্রেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

তদন্তে রেল কর্তৃপক্ষ

পরবর্তীতে আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প বাস ও ট্যাক্সির ব্যবস্থা করা হয়। অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা 'আদিফ' (Adif) ওভারহেড তার এবং ট্র্যাকের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ‘সিরিজ ১০০’ ট্রেনটিকে সরিয়ে নেওয়া এবং ট্র্যাক মেরামতের কাজ চলায় মঙ্গলবারও ট্রেন চলাচলে বিলম্ব ঘটে। ট্রেনের পিছনের ইঞ্জিনে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে 'রেনফে'। এদিকে হয়রানির শিকার হওয়া যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত অথবা বিনামূল্যে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে রেল সংস্থাটি।