মুহূর্তের কম্পনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত একের পর এক বাড়ি! তিব্বত-চিন সীমান্তে ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন। আহত বহু, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেঙে পড়েছে শতাধিক বাড়ি, আর্তনাদ আর আতঙ্কে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। ধ্বংসস্তূপের নিচে কি এখনও আটকে রয়েছেন অনেকে? জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।
তিব্বত ও চিনের সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন অন্তত ১৮ জন। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে কয়েকশো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু, আহত বহু
স্থানীয় প্রশাসন ও চিনের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের উৎসস্থলের আশপাশে ৩৩৯টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও বহু বাড়ি। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল উৎসস্থল
চিনের আর্থকুয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নাগকু থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের একটি পার্বত্য অঞ্চলে। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকেও ওই এলাকা প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
উদ্ধারকাজে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা
ভূমিকম্পের পর থেকেই দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০০ জন পুলিশকর্মী, উদ্ধারকারী দলের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে হাত লাগিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল আতঙ্কের ভিডিও
ভূমিকম্পের ভয়াবহতার ছবি উঠে এসেছে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে। সেখানে দেখা গিয়েছে, কম্পন শুরু হতেই একটি সুপারমার্কেটের পাশে থাকা রেস্তরাঁ থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় বাইরে বেরিয়ে আসছেন বহু মানুষ। এর পরেই ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়তে দেখা যায়। আচমকা এই কম্পনে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে তিব্বত-চিন সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৃত ও আহতের সংখ্যা, বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশাসনের তরফে নজর রাখা হচ্ছে।







