চীনে উদ্ধার হল ১ হাজার টন সোনার ভাণ্ডার! মিলল ভীনগ্রহের ধাতুও, তাজ্জব প্রত্নতত্ত্ববীদরা

কর্ণাটকে বর্তমানে লক্কুন্ডির গুপ্তধন নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। দিন যত যাচ্ছে, ততই এই ঘটনা নতুন নতুন রূপ নিচ্ছে এবং মানুষের কৌতূহল বাড়াচ্ছে। আগে যে গ্রামটির নামই কেউ জানত না, আজ তা সারা ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। হঠাৎ করেই এখানকার জমির দাম বেড়ে গিয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে প্রাচীন শিলালিপি ও নানা নিদর্শন, যা নিয়ে বড়সড় গবেষণা শুরু হয়েছে। লক্কুন্ডির মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস একে একে সামনে আসছে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সম্ভাব্য গুপ্তধন এই অঞ্চলকে নতুন গুরুত্ব এনে দিয়েছে। যত খোঁড়া হচ্ছে, ততই বেরোচ্ছে অজানা অধ্যায়।

চীনে মিলল হাজার টন সোনার ভাণ্ডার কর্ণাটকের ঘটনার পাশাপাশি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীনের একটি আবিষ্কার। মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের পিংজিয়াং কাউন্টির ওয়াংগু এলাকায় প্রায় ১,০০০ টন সোনার ভাণ্ডার পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদরা। এর সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার। গবেষকদের দাবি, প্রায় ৬,৫৬২ ফুট গভীরে ৩০০ টনেরও বেশি সোনার স্তর শনাক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৪০টি সোনার শিরা, যা ইতিহাস ও ভূবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বড় আলোড়ন তৈরি করেছে। 

মিলছে ভিনগ্রহের ধাতুর মতো বস্তু শুধু সোনা নয়, আরও আশ্চর্যের বিষয় হল কিছু বস্তু পাওয়া গেছে যা দেখতে ভিনগ্রহের ধাতুর মতো। স্পেনের আইবেরিয়ান ব্রোঞ্জ যুগের সোনার ভাণ্ডারের মধ্যে গবেষকরা এমন কিছু মরিচা ধরা বস্তু পেয়েছেন, যেগুলি পৃথিবীর নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোনায় মোড়া চুড়ি ও ফাঁপা গোলাকার গয়নার মধ্যে এমন ধাতু মিলেছে যা নাকি আকাশ থেকে পড়ে এসেছে।

গবেষকদের অনুমান, এগুলি উল্কাপিণ্ডের অংশ হতে পারে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্পেনের জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের প্রাক্তন সংরক্ষণ প্রধান সালভাদোর রোভিরা-লোরেন্স। যত খোঁড়া যায়, ততই বাড়ে বিস্ময় পৃথিবীর বুকে লুকিয়ে আছে অসংখ্য রহস্য। যত খনন হচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে এমন সব তথ্য যা মানুষের কল্পনারও বাইরে। মানুষ নিজেকে যতই সবজান্তা ভাবুক, প্রকৃতি বারবার প্রমাণ করে দেয়—তার কাছে আমরা এখনো অনেকটাই ক্ষুদ্র। লক্কুন্ডি থেকে চীন, আবার স্পেন পর্যন্ত—এই সব আবিষ্কার প্রমাণ করছে, পৃথিবীর গভীরে এখনও লুকিয়ে আছে অজানা ইতিহাস ও বিস্ময়ের ভাণ্ডার।