নিষেধাজ্ঞা এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার লক্ষ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল স্থলভাগের স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং জাহাজে আটকে পড়ে আছে।

ভেনেজুয়েলার তেল ভারতকে বিক্রিতে রাজি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, একটি নতুন মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর অধীনে ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার অনুমতি দিতে প্রস্তুত। এর ফলে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া তেল বাণিজ্য আবারও সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের বিশাল এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনা পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিতে প্রস্তুত কি না, এই সরাসরি প্রশ্নের জবাবে উত্তরটি ছিল স্পষ্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা আইএএনএস-কে বলেন, 'হ্যাঁ'। তবে তিনি এটাও জানিয়ে দেন যে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস্টোফার রাইটের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন, যিনি বলেছিলেন যে ওয়াশিংটন প্রায় সব দেশের কাছে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইট বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে, তবে তা কেবল একটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর অধীনে। তিনি বলেন, 'আবারও বলছি, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার দ্বারা বাজারজাত করা হবে। টাকা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা হবে।' আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্য সীমিত হওয়ার আগে ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম বৃহত্তম গ্রাহক। এই নতুন সুযোগ ভারতকে তার জ্বালানি আমদানিকে বৈচিত্র্যময় করতে সাহায্য করতে পারে, কারণ চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।

নিউইয়র্কে একটি সম্মেলনে রাইট বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মজুত থাকা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাত করার পরিকল্পনা করছে এবং এরপর ভবিষ্যতের উৎপাদন থেকেও বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এই পদক্ষেপটি বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের কিছু অংশকে নতুন করে সাজাতে পারে, যেখানে ওয়াশিংটনই মূল চালকের আসনে থাকবে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর একটি নতুন ব্যবস্থার অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল শোধন ও বিক্রি করবে। ট্রাম্প বলেন, 'ভেনেজুয়েলা খুব সফল হতে চলেছে। আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আমরা তা ফিরিয়ে নিচ্ছি। তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, কারণ ওয়াশিংটন এমন একটি দেশে তেল উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুত রয়েছে, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা, অব্যবস্থাপনা এবং কম বিনিয়োগের কারণে দেশটির শিল্প খাত পঙ্গু হয়ে পড়েছে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। ট্রাম্প বলেছেন, কোন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে তা তাঁর প্রশাসনই সিদ্ধান্ত নেবে।

ট্রাম্প মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়াতে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেছেন। এই সপ্তাহে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে। নিষেধাজ্ঞা এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার লক্ষ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল স্থলভাগের স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং জাহাজে আটকে পড়ে আছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ওয়াশিংটন অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল রফতানি নিয়ন্ত্রণ করবে। অ-মার্কিন ক্রেতাদের কাছে কিছু চালান পাঠানোর অনুমতি দেবে।