দেখতে তে আরও এক উত্তেজক আইপিএল মরসুম শেষ হতে চলল। রবিবারইশেষ রজনী। ফাইনালে মুখোমুখি আইপিএল-এর ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দুই দল - মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। দুই দলই তিনবার করে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে এদিন যারাই জিতবে তাদের হাতেই তৈরি হবে, সবার আগে চারবার আইপিএল ট্রফি জয়ের ইতিহাস।

এই লড়াইতে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখা হচ্ছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। কারণ তচলি মরসুমে সিএসকে-কে তিন-তিনবার পরাজিত করেছএন এমআই। কিন্তু ক্রিকেট মহা-অনিশ্চয়তার খেলা, তার উপর ক্রিকেটের এই সংক্ষপ্ততম সংস্করণে তো আগে থেকে কিছু বলাটাই বোকামি। তবে যে কোনও বড় যুদ্ধ জিততে গেলে ছোটও ছোটও লড়াই গুলো জিততে হয়। ক্রিকেট দলগত খেলা হলেও ব্যক্তিগত দক্ষতার ঝলকও এই খেলায় যথেষ্ট প্রভাবশালী। কাজেই মুম্বই ও চেন্নাইয়ের ক্রিকেটিয় লড়াইয়ের সঙ্গে টক্কর চলবে দুই দলে থাকা ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত স্তরেও। ফাইনালে জিততে গেলেও দুই দলকেই কিন্তু এই ব্যাক্তিগত লড়াইগুলোও জিততে হবে।

ফাপ দু প্লেসিস বনাম লাসিথ মালিঙ্গা

সিএসকের টপ অর্ডারের ছন্দের অভাব ধোনিকে চিন্তায় রেখেছিল। শুরুটা ভালো করেও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেন না দু প্লেসিস। কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেই দুরন্ত অর্ধশতরানে তিনি নিজের ফর্ম ফিরে পেয়েছেন। অপরদিকে মালিঙ্গা এই মরসুমের মাঝে শ্রীল্কঙ্কায় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলতে চলে গেলেও ফিরে এসে বল হাতে বুমরার সঙ্গে ভয়ঙ্কর পেস জুটি গড়ে তুলেছেন। ক্রিকেট কেরিয়ারের পড়ন্ত বেলাতেও নিজের প্রতিদিনই নিজের মূল্য বুঝিয়ে চলেছেন এই শ্রীলঙ্কান। চেন্নাই ইনিংসের শুরুতে বিশ্ব ক্রিকেটের এই দুই বড় নামের টক্কর জমে যাবে।

এমএস ধোনি বনাম যশপ্রীত বুমরা

চলতি আইপিএল মরসুমে বারবারই ব্য়াটসম্য়ানদের দারাবাহিকতার অভাব ভুগিয়েছে হলুদ জার্সিদারীদের। ব্যতিক্রম তাদের অধিনায়ক। ম্যাচের পর ম্য়াচ সিএসকে ব্য়াটিং-এর মেরুদণ্ড রূপে আবির্ভূত হয়েছেন ধোনি। দেখা গিয়েছে প্রথমদিকে ধরে খেলে ইনিংসের শেষ দিকে গিয়ার পাল্টে বড় শট খেলতে চান ধোনি। কিন্তু রবিবার সেই কাজ করতে গেলে তাঁকে মোকাবিলা করতে হবে জাতীয় দলের সতীর্থ যশপ্রীত বুমরার। যিনি আবার ডেথ ওবারে বলে বলে বিষাক্ত ইয়র্কার ডেলিভারি করার জন্যই খ্য়াত। ধোনি, বুমরার সেই ছোবল কতটা সামলাতে পারেন, তার উপর অনেটাই সিএসের সাফল্য নির্ভর করছে।

রোহিত শর্মা বনাম ডোয়েন ব্রাভো

ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের বল খেলতে বারবারই অসুবিধায় পড়েছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক। আইপিএল-এ মোট ৫ বার ব্রাভোর বলে আউট হয়েছেন হিটম্যান। ধোনির য়েরকম ধুর্ধর অধিনায়ক, তাতে ফাইনালে রোহিতের এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে ইনিংসের শুরুর দিকে ব্রাভোকে লেলিয়ে দিতে পারেন। ফাইনাল ম্য়াচে চাপ সামলে রোহিতের কাছ থেকে বড় ইনিংস আশা করছে মুম্বই। ব্রাভো সেই আশায় জল ঢেলে দিলে অনেক কিছুই পাল্টে যেতে পারে।

কুইন্টন ডি কক বনাম দীপক চাহার

এই মরসুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ব্য়াটিংকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার কুইন্টন ডি কক। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছেন তিনিই। কিন্তু লিগের দুই ম্যাচেই তাঁর উইকেট শিকার করেছিলেন সিএসকের জোরে বোলার দীপক চাহার। নতুমন বলে বড় সুইং আদায় করতে পারেন চাহার। এই বার চেন্নাইয়ের হয়ে সবচেয়ে বেশি ডটলও তিনিই করেছেন। তাঁকে শুরুর দিকের ওভারেই কাজে লাগান ধোনি। কাজেই প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের সঙ্গে দীপক চাহারের শেষ টক্কর দেখা যেতে পারে ফাইনালে।

হার্দিক পাণ্ডিয়া বনাম ইমরান তাহির

এই মরসুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের লোয়ার-মিডল অর্ডারে হার্দিকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বলের পর বল মাঠ পার করানোর ক্ষমতা রাখেন এই অলরাউন্ডার। শেষের দিকে তাঁর ঝোড়ো ইনিংসই চলতি মরসুমে বেশ কয়েকটি ম্য়াচে তফাত গড়ে দিয়েছে। মজার বিষয় হল, সিএসকের সাফল্যের পিছনে একই রকম গুরুত্বপূর্ণ মাঝের ওভারে ইমরান তাহিরের বোলিং। উইকেট নিয়ে, রান শুষে নিয়ে মাঝের ওভারেই প্রতিপক্ষকে বেলাইন করে দিচ্ছেন এই অভিজ্ঞ প্রোটিয়া স্পিনার। দুই দলের এই সেরা দুই পারফর্মারকে ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দেখা যেতেই পারে। বিপরীতে তাহির থাকলেও হার্দিক তাঁর আগ্রাসী ব্য়াটিংয়ে নিয়ন্ত্রণ আনবেন বলে মনে হয় না। আবার হার্দিক দু-একটিু মেরে দিলেও তাহির উইকেট নেওয়ার চেষ্টা ছাড়বেন না। কাজেই এই দুই সেরার লড়াইটা যিনি জিতবেন, তাঁর দল অনেকটাই জেতার ব্যাপারে এগিয়ে যাবে।