আরসিবিকে ৫ উইকেটে হারিয়ে আইপিএল ২০২০-র প্রথম দল হিসেবে শেষ চারে কোয়ালিফাই করল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৬৪ রান করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। আরসিবির হয়ে ৭৪ রান করেন দেবদূত পাড়িকল। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে মুম্বইয়ের হয়ে  ৭৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন সূর্যকুমার যাদব। জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে ৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। আরসিবি হয়ে দুই ওপেনার জোসুয়া ফিলিপে ও দেবদূত পাড়কল আক্রমণাত্বকভাবে শুরু করেন ইনিংস। বেশি আক্রমণাত্ব ভঙ্গিতে ব্যাটিং করেন দেবদূত পাড়িকল। পাওয়ার প্লে শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৪ রান। পাওয়ার প্লের পরও নিজেদের পার্টনার শিপ চালিয়ে যান পাড়িক ও ফিলিপে জুটি। যদিও অষ্ট ওভারে ৭১ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে আরসিবির। রাহুল চাহারের বলে ৩৩ রান করে আউট হন জসুয়া ফিলিপে। এরপর ক্রিজে আসেন আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ১০ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ৮৮ রানে ১ উইকেট। 

এদিন ব্যাট হাতে বড় রান করতে ব্যর্থ হন কোহলি। ১২ তম ওভারে গলের ৯৫ রানের মাথায় বুমরার শিকার হন কোহলি। ৯ রান করেন তিনি। এরপর নামেন এবি ডিভিলিয়ার্স। অপরদিকে নিজের ইনিংস চালিয়ে নিয়ে দেবদূত পাড়িকল। পূরণ করেন নিজের অর্ধশতরানও। ১৫ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ১২৯ রানে ২ উইকেট। ১৬ তম ওভারে রানের গতিবেগ বাড়াতে গিয়ে আউট হন এবি ডিভিলিয়ার্স। পোলার্ডের বলে ১৫ রান করে আউট হন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন শিবম দুবে। ১৬ ওভারের শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ১৩৪ রানে ৩ উইকেট। ১৭ তম ওভারে পরপর দুটি উইকেট নিয়ে আরসিবিকে জোর ধাক্কা দেন লুমরা। ৭৪ রান করে আউট হন পাড়িকল ও ২ রান করে আউট হন শিবম দুবে। ১৮ তম ওভারে ক্রিস মরিসকে প্যাভেলিয়নে ফেরান ট্রেন্ট বোল্ট। ৪ রান করেন তিনি। ১৮ ওভার শেষে ব্যাঙ্গালোরের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৬ রানে ৬ উইকেট। ১৯ তম ওভারেও বেশি রান করতে পারেননি আরসিবির ব্যাটসম্যানরা। ২০ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁডায় ১৬৪ রানে ৬ উইকেট।

১৬৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুটা একটু ধীরেই শুরু করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুই ওপেনার। উইকেট না হারিয়ে রানরেট এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কুইন্টন ডিকক ও উশান কিষাণ। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ৩৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। মহম্মদ সিরাজের বলে ১৮ আউট হন কুইন্টন ডিকক। ৬ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৪৫ রানে ১ উইকেট। এরপর ইশান কিষাণ ও সূর্যকুমার যাদব মুম্বইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হন। অষ্টম ওভারে ৫২ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। যুজবেন্দ্র চাহলের বলে ২৫ রান করে আউট হন ইশান কিষাণ। এরপর ক্রিজে আসেন সৌরভ তিওয়ারি। ১০ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৭০ রানে ২ উইকেট। ১১ তম মহম্মজ সিরাজের শিকার হন সৌরভ তিওয়ারি। ৫ রান করেন তিনি। এরপর মুম্বইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান ক্রুণাল পান্ডিয়া ও সূর্যকুমার যাদব। মিডল অর্ডারে ফের মুম্বইয়ের হয়ে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেন সূর্যকুমার। কিন্তু ১৪ তম ওভারে চতুর্থ উইকেটের পতন হয় মুম্বইয়ের। চাহলের বলে ১০ রান করে আউট হন ক্রুণাল পান্ডিয়া। ১৫ ওভার শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোর দাঁড়ায় ১১৭ রানে ৪ উইকেট।

১৬ তম ওভারের শুরুতেই চার মেরে নিজের অর্ধশতরান করেন সূর্যকুমার যাদব। ২৯ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। ওভারে আরও দুটি চার মারেন সূর্যকুামর যাদব। ১৬ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১৩০ রানে ৪ উইকেট। ১৭ ওভারে অনবদ্য ব্যাটিং করেন সূর্যকুমার যাদব।  ১৮ তম ওভারেও ডেল স্টেইনকে একটি বিশাল ছক্কা মারেন সূর্যকুমার যাদব। ১৮ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৯ রানে ৪ উইকেট। ১৯ তম ওভারে ক্রিস মরিসকে একটি বিশাল ছক্কা মারেন হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু সেই ওভারেই আরও একটি হিট করতে গিয়ে আউট হন হার্দিক। ১৭ রান করেন তিনি। ১৯ তম ওভারের শেষ বলে চার মেরে মুম্বইকে জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় নিয়ে যান পোলার্ড। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩ রান। প্রথম বলেই চার মেরে মুম্বইকে জয় এনে দেন সূর্যকুমার যাদব। ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌছানোই নয়, প্রথম দল হিসেবে শেষ শেষ চারে যোগ্যতা অর্জন করে ফেলল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।