আইপিএলে কার্যত একতরফা ম্য়াচে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবকে ৬৯ রানে হারাল সানরাইজার্স হাদরাবাদ। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২০১ রান করে ডেভিড ওয়ার্নারের দল। দলের হয়ে দুরন্ত ইনিংস খেলেন জনি বেয়ারস্টো ও  ডেভিড ওয়ার্নার। বেয়ারস্টো করেন ৯৭ রান, ওয়ার্নার করেন ৫২ রান। ২০২ রানের  টার্গেট তাড়া করতে নেমে লাগাতার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পঞ্জাব। কিংস ইলেভেনের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন নিকোলাস পুরান। পঞ্জাবের ইনিংস শেষ হয় ১৩২ রানে। এদিন টসে জিতে ব্য়াটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভিড ওয়ার্নার। ব্য়াট করতে নেমে দুরন্ত শুরু করেন দুই ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ও ডেভিড ওয়ার্নার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক শট খেলতে শুরু করেন দুই ব্যাটসম্যান। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৮ রান।পাওয়ার প্লে-র পরও নিজেদের আক্রমণাত্বক ব্য়াটিং চালিয়ে যান হায়দরবাদের দুই ওপেনার। ১০ ওভারের আগেই নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন জনি বেয়ারস্টো। ১০ ওভার শেষে সানরাইজার্সের স্কোর দাঁ ড়ায় ১০ ওভারে ১০০ রান। ১০ ওভার পর রানের গতিবেগ আরও বাড়িয়ে দেন দুই ওপেনার। এরই মধ্যে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন ডেভিড ওয়ার্নার। ১৪ তম ওভারে ১৫০ রানের পার্টনারশিপও পূরণ করেন ওয়ার্নার-বেয়ারস্টো জুটি। ১৫ ওভার শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের রান বিনা উইকেটে ১৬০ রান। 

অবশেষে ১৬ তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন ডেভিড ওয়ার্নার। রবি বিষ্ণোইয়ের বলে ৫২ রান করে আউট হন তিনি। একই ওভারে জনি বেয়ারস্টো কে আউট করে হায়দরাবাদকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন বিষ্ণোই। ১৬ ওভার শেষে সানরাইজার্সের স্কোর দাঁড়ায় ১৬১ রানে ২ উইকেট। ১৭ ওভারের শুরুতেই আরও একটি উইকেট পড়ে হায়দরাবাদের। আর্শদীপ সিংয়ের বলে ২ রান করে আউট হন মণীশ পাণ্ডে। ১৮ তম ওভারে আরও একটি উইকেট সানরাইজার্সের। রবি বিষ্ণোইয়ের বলে আউট হন আবদুল সামাদ। ১৯ তম ওভারে পঞ্চম উইকেট পড়ে সানরাইজার্স। আর্শদীপের বলে আউট হন প্রিয়ম গর্গ। ১৯ ওভার শেষে হায়দরাবাদের স্কোর দাঁড়ায় ১৮৭ রানে ৫ উইকেট।  ১৯ তম ওভারে ষষ্ঠ উইকেট পড়ে। শামির বলে আউট হন অভিষেক শর্মা। তিনি করেন ১২ রান। ২০ ওভার শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের স্কোর দাঁড়ায় ২০১ রান।  জয়ের জন্য কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের টার্গেট ২০২ রান।

২০২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। দ্বিতীয় ওভারে রান আউট হয়ে প্য়াভেলিয়নে ফেরত যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল। তিন করোন ৯ রান। তারপর ক্রিজে নামেন প্রভশিমরন সিং। কিন্তু পঞ্চম ওভারে খালিল আহমেদের বলে ১১ রান করে আউট তিনি। এর পর ক্রিজে নেমেই বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন নিকোলাস পুরাণ। একের পর এক আক্রমণাত্বক শট খেলেন তিনি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ৪৫ রানে ২ উইকেট। সপত্ম ওভারে তৃতীয় উইকেট পড়ে কিংস ইলেভেনের। অভিষেক শর্মার বলে ১১  রান করে আউট হন কেএল রাহুল। এরপর ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে একটাপার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করেন নিকোলাস পুরান। একধার থেকে নিজের বিধ্বংসী ইনিংস চালিয়ে যান তিনি। মাত্র ১৭ বলে ৫০ রান পূরণ করেন ক্যারেবিয়ান তারকা। ১০ ওভার শেষে কিংস ইলেভেনের স্কোর দাঁড়ায় ৯৬ রানে ৩ উইকেট।

৪৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ার পর ১১ তম ওভারে রান হয়ে যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৭ রান করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন মনদীপ সিং। কিন্তু বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। ১৩ তম ওভারে রাশিদ খানের বলে ৬ রান করে বোল্ড হন তিনি। ১৪ তম ওভারে ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয় পঞ্জাবের। খালিল আহমেদের বলে আউট হন মুজিবুর রহমান। ১৫ তম ওভারে রাশিদ খানের বলে শেষ হয় পুরানের ইনিংস। ৩৭ বলে ৭৭ রান করে আউট হন তিনি। একই ওভারে আরও একটি উইকেট পান রাশিদ খান। মহম্মদ শামিকে ০ রানে আউট করেন তিনি। ১৫ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১২৬ রানে ৮ উইকেট। ১৭ তম ওভারে পরপর দুটি উইকেট নিয়ে পঞ্জাবের ইনিংস শেষ করেন টি নটরাজন। ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। ৬৯ রানে ম্যাচ জিতে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।