খিদের জ্বালায় আরও মরিয়া হল দাঁতাল হাতি ৷ দুপুরবেলা প্রকাশ্যে রাজ্য সড়কের ওপরে গ্রামের কৃষকের মেলে রাখা ধান খেল দাপিয়ে ৷ রাস্তা আটকে আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাপিয়ে নিজের মতো করে ফিরে গেল জঙ্গলের দিকে ৷ গত দুদিন আগে স্থানীয় এক বাসিন্দাকে মেরে ফেলেছিল এই দাঁতাল ৷ তাই আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের উদ্ধার করতে খুনে হাতিটিকে ঝাড়খণ্ডে পাঠানোর কাজে নেমেছে বনদফতর ৷ 

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি থানার বেলদা গ্রামে ৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন রোজকার মতো ধানের আগাছা মাড়ার জন্য রাজ্য সড়কের পিচ রাস্তার ওপরে মেলেছিলেন ৷ যাতে ওই রাস্তার ওপর দিয়ে যানবাহন গেলে আগাছা মাড়িয়ে ধানগুলি আলাদা হয়ে যায় ৷ সেই ধানের গন্ধ পেয়ে সেখানে হাজির হয়ে যায় এক দাঁতাল ৷ কয়েক কিলোমিটার দূরে জঙ্গল থাকলেও ধানের সন্ধানে সেখানে চলে আসে ৷ গ্রামবাসীদের চিৎকার ও বোমা ফাটানোর আওয়াজকে তোয়াক্কা না করেই সেই মেলে রাখা ধান খাওয়া শুরু করে ৷ 

রাস্তার ওপরে বিশাল দাঁতাল নিশ্চিন্তে ধান খাচ্ছে দেখে ওই পথের যানবাহন তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি ৷ দূরে সরে দাঁড়িয়ে পড়েন সকলে ৷ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা ৷ কারণ দুদিন আগেই স্থানীয় এক বাসিন্দাকে খুন করেছিল দাঁতাল হাতিটি ৷ প্রায় আধঘন্টা ধরে ধান খেয়ে হাতিটি ধীরে ধীরে পাশের গ্রামের বাসিন্দাদের সব্জি বাগানে ঢুকে পড়ে ৷ কৃষকের মাচায় থাকা লাউ ছিঁড়ে খেতে থাকে হাতিটি ৷ গ্রামের কোনও ক্ষতি না করে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে ৷ 

আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা খবর দেয় বনদফতরে ৷ বনকর্মীরা হাতিটিকে তাড়িয়ে জঙ্গলের ভেতরে ঢোকায় ৷ হাতিটিকে দ্রুত এলাকা ছাড়া করে পাকাপাকি ভাবে ঝাড়খন্ডের জঙ্গলে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করে বন দফতর ৷ সোমবার এই হাতিটিই স্থানীয় জামবনী রেঞ্জ অফিসে ঢুকে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল ৷ পরে হুলাপার্টি দিয়ে তাড়ানো হয় ৷ এরপর মঙ্গলবার পাশের বেলদাতে রাস্তায় মেলে রাখা ধান খেয়ে নিল হাতি ৷