নরেন্দ্র মোদী প্রকল্পের দেখা দেখি এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর অন্তর্গত মানুষকে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ দেবে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে আইনসিদ্ধ করা হয়েছিল সংরক্ষণ বিল সংবিধানের 126 নম্বর ধারা সংশোধনের সংশোধনী এনে স্পষ্ট বলা হয় শিক্ষা ক্ষেত্রে ১০ সংরক্ষিত থাকবে দরিদ্রদের জন্যে। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকারও।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আপাতত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রিসভা ওই সিদ্ধান্তের সম্মতি দিয়েছে। এ বিষয়ে যেদিন চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে সেদিন শর্তগুলি জানানো হবে। তিনি আরও জানান এখন থেকে সরকারি চাকরি ক্ষেত্র সহকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সঙ্গতির ভিত্তিতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ করা হবে তবে শিক্ষা মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন ইতিমধ্যে তার সংরক্ষণ এর আওতায় থাকা নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন না। 

সামনে বিধানসভা ভোট।  রাজনীতির ব্যাপারীরা মনে করছেন সমাজের সমস্ত বর্গের মন পেতে কল্পতরু অবতারের উত্তীর্ণ হতে চাইছেন রাজ্য সরকার।  এই ঘোষণায় প্রশ্ন উঠছে অন্যত্র। চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নাভিশ্বাস ওঠা চাপ রাজ্য জুড়ে। ইতিমধ্যেই সংরক্ষণের আওতায় হয়েছে তফশিলি জাতিভুক্তরা। এর মধ্যে এই সংরক্ষণ চালু হলে সাধারণের জন্যে আসনের পরিমাণ আরও কমবে।

আরও পড়ুনঃ জলসঙ্কট নিয়ে দুশ্চিন্তায় মুখ্যমন্ত্রী, পালিত হবে জল বাঁচাও দিবস

বলাই বাহুল্য ভোটের আগে আট লক্ষ টাকার কম আয় এমন উচ্চবর্ণকে সংরক্ষণের আওতায় নিয়ে আসার কৌশল নরেন্দ্র মোদীকে ভোটব্যাঙ্কে ভালই ডিভিডেন্ট দিয়েছিল। প্ৰশ্নও উঠেছিল বেশ কয়েকটি। এবার মুখ্যমন্ত্রীও সেই পথে পা বাড়াচ্ছেন ভোটকে সামনে রেখেই। তবে বর্ণের কথা না এনে তাঁর প্রশাসন বারবার বার্তা দিচ্ছে  আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকার নিরিখেই এই সংরক্ষণ হবে। এই প্রকল্পে শিলমোহর পড়ে গিয়েছে। তবে স্নাতক স্তর পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া সদ্য শেষ হওয়ায় সম্ভবত শিক্ষার ক্ষেত্রে এই নিয়ম লাগু হতে সময় লাগবে আরও এক বছর।

অনেকেই বলছেন এই কৌশল চাণক্য তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন ভরসা প্রশান্তকিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত।