শৈশব শিক্ষার আঁতুরঘর। এই স্কুলেই কেটেছে তাঁর শিক্ষা জীবনের প্রারম্ভিক পাঠ। সেই স্কুল আজ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ-এর স্মৃতিচারণাতেই ব্যস্ত। দুর্গাপুজোর ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবারই খুলেছে স্কুল। কিন্তু, গোটা স্কুল চত্বর জুড়েই শুধু অভিজিৎ, আর অভিজিৎ। কোন ঘরে বসতেন? ফার্স্ট বেঞ্চের থেকে লাস্ট বেঞ্চটাই তাঁর ছিল পছন্দের। এমন নানা কাহিনি এখন সাউথ পয়েন্ট জুড়ে। 

স্বাভাবিকভাবেই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রের নোবেল জয়ে সমানভাবে গর্ব অনুভব করছে দক্ষিণ কলকাতার এই নামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সেই কারণে ঠিক হয়েছে অভিজিৎ-এর কলকাতা আগমনের পর স্কুলের একদল ছাত্র ও শিক্ষক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ইতিমধ্যে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের অ্যালমনি অ্যাসোসেয়েশন অভিজিৎ-কে শুভেচ্ছা জানাতে ' অনলাইন সিগনেচার ক্যাম্পেন' শুরু করেছে। 

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়তেন শর্মিলা দে সরকার। বর্তমানে তিনি স্কুলের বায়োলজি শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত। তিনি জানালেন, নোবেলজয়ের পর খবর প্রকাশ হতেই অভিজিৎ-কে নিয়ে তাঁদের ক্লাসের বন্ধুরা সমানে নানা স্মৃতিচারণা করে চলেছেন। 

সাউথ পয়েন্ট স্কুলের অধ্যক্ষা রূপা স্যান্যাল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, 'মঙ্গলবারই অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি শুভেচ্ছা বার্তা স্কুলের তরফে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের সই সম্বলিত একটি স্মারক তৈরি করা হচ্ছে। এই স্মাারকটি কীভাবে অভিজিৎ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পরের সপ্তাহে অভিজিৎ কলকাতায় এলেই এই সই সম্বলিত স্মারকটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে।'

বলতে গেলে সাউথ পয়েন্ট এখন অধীর প্রতিক্ষায়। এমনই বক্তব্য সাউথ পয়েন্ট এডুকেশন সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কৃষ্ণা দামানির। তাঁর মতে, এটা স্বাভাবিক যে অভিজিৎ তাঁর কলকাতা সফরে প্রচণ্ডই ব্যস্ত থাকবেন। সেই ব্যস্ততার মাঝে সময় করে কীভাবে স্কুলে আসবেন সেটাও তাঁর বুঝতে পারছেন। কিন্তু, তারপরেও স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইছে অভিজিৎ কিছুক্ষণের জন্য হলেও সাউথ পয়েন্টে আসুন। কারণ, তাঁর নোবেল জয় স্কুলের কাছেও একটা অত্যন্ত গর্বের এবং প্রাক্তন ছাত্রকে সম্বর্ধনা দিয়ে স্কুলের গর্বকে আরও গৌরাম্বিত করতে চাইছেন বলেই জানিয়েছেন দামানি।