প্রথমে রবীন্দ্রভারতী। তারপর মালদার নামকরা বার্লোস্কুল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরও একটি নাম-- বারাসতের মহাত্মা গান্ধি মেমোরিয়াল হাই স্কুল। একেবারে ক্লাসরুমের ভেতর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সেই অশ্লীল বিকৃতি, 'চাঁদ উঠেছিল গগনে' গেয়ে ভিডিয়ো তৈরি করলো একাদশ শ্রেণির ছাত্ররা। আর নিমেষের মধ্য়ে সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে গেল।

ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে অনেকেই বলছেন, করোনার চেয়েও দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে জনৈক রোদ্দুর রায়ের গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীতের অশ্লীল সংস্করণ। আর, এই দূষণ এই গতিতে ছড়াতে থাকে তা প্রতিরোধ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে অচিরেই।

বারাসতের মহাত্মা গান্ধি মেমোরিয়াল স্কুলের যথেষ্ট সুখ্য়াতি রয়েছে এলাকায়। মাধ্য়মিক, উচ্চমাধ্য়মিকে রাজ্য়ের রীতিমতো ভাল ফল করে এখানকার পড়ুয়ারা। শনিবার রাতে এই স্কুলেরই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে।  তাতে দেখা গিয়েছে, একটি শ্রেণিকক্ষে  পড়ুয়ারা রোদ্দুর রায়ের সেই অশালীন গান ( ... চাঁদ উঠেছিল গগনে) গাইছে। জানা গিয়েছে ওই  পড়ুয়ারা একাদশ শ্রেণির। নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায় ওই ভিডিয়ো।

ঘটনায় মাথা হেঁট হয়ে যায় স্কুলের প্রাক্তনী থেকে শুরু করে বারসতের শিক্ষিত মানুষজনের। প্রাক্তনীদের পক্ষে অভিজিৎ দত্ত গিয়ে দেখা করেন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে। অভিজিৎ জানান, 'আমাদের স্কুলের একটা সুনাম রয়েছে। এই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর শুধু স্কুলেরই নয়, বারাসতের মানুষও লজ্জায় পড়েছেন। প্রধানশিক্ষকের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছি, ওই পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে যাতে কঠোর ব্য়বস্থা নেওয়া হয়। আর তা না-নেওয়া হলে আমরা যতদূর যেতে হয়, ততদূর যাবো।'  এদিকে  প্রধানশিক্ষক শেখ আলি আহসেন বলেন, "উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ব্যস্ত আছি। তবে এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। যদি দেখি বিষয়টি মাত্রা ছাড়িয়েছে বা এর মাধ্যমে স্কুলের অন্য ক্লাসের ছাত্রদের মধ্যে প্রভাব পড়েছে, তাহলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবো।"

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্য়ালয়ের বিটি রোড ক্য়াম্পাসের মরকতকুঞ্জে দোল উৎসব উপলক্ষে কয়েকজন ছাত্রীর উন্মুক্ত পিঠে দেখা যায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের অশ্লীল বিকৃতি। জনৈক ইউটিউবার রোদ্দুর রায় একটি রবীন্দ্রসঙ্গীতকে যৌন-বিকৃতির সঙ্গে গেয়েছিলেন। সেই গানের লাইনই দেখা গিয়েছিল পড়ুয়াদের পিঠে। আর সেই সময়ে রবীন্দ্রভারতী প্রাঙ্গণে সাউন্ডবক্সে বাজছিল রোদ্দুর রায়ের গাওয়া ওই বিকৃত গান। ঘটনায় কাঠগড়ায় তোলা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপিকে। কারণ, সাউন্ড বক্সে ওই গান চালানো থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের আয়োজন, সবকিছুর দায়িত্বে ছিল টিএমসিপির ছাত্র সংসদ। এদিকে ওই ঘটনায় রাজ্য়জুড়ে তোলাপাড় পড়লে বিশ্ববিদ্য়ালয়ের উপাচার্য সব্য়সাচী বসু রায়চৌধুরী পদত্য়াগ করেন। যদিও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় সেই ইস্তফা গ্রহণ করেননি। এমতাবস্থায়, ভাইরাল হয়ে যায় আরও একটি ভিডিয়ো। তাতে দেখা যায়, মালদা জেলার নামকরা স্কুল বার্লো বালিকা বিদ্য়ালয়ের কয়েকজন ছাত্রী স্কুলের পোশাক পরে স্কুলের ভেতরেই একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করে। একাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীরা রোদ্দুর রায়ের এই বিকৃত, কদর্য ও অশ্লীল গান গাইতে থাকে। যা ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্য়ে। কড়া শাস্তির মুখে পড়ে ওই ছাত্রীরা ক্ষমা চেয়ে নেয়। তাদের আপাতত পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে বড়সড় শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে রবীন্দ্রভারতীর ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনজনেই হুগলির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এবং সেই সঙ্গে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা কেউই বিশ্ববিদ্য়ালয়ের পড়ুয়া বা প্রাক্তনী নয়। সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার।