পশ্চিমবঙ্গের করোনা যুদ্ধে কিছুই সাহায্য় করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। একেবারে খালি হাতে লড়তে হচ্ছে তাঁকে।  করোনার মতো অতিমারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে যা করার নিজেকেই করতে হচ্ছে মুখ্য়মন্ত্রীকে। বহুবার নবান্নে বসে এই অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বাস্তব বলছে অন্য কথা। বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র দাবি অনেক ক্ষেত্রে যা চেয়েছেন তার থেকে বেশি পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

সোশ্য়াল মিডিয়ায় তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্য়বাদী বলেছেন বাবুল সুপ্রিয়। বিজেপির আসানসোলের সাংসদ বলেন, সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৫লক্ষ ৬৯ হাজার এন৯৫ মাস্ক বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্য়েই যার ১১ লক্ষ ২৯ হাজার এন৯৫ মাস্ক পেয়ে গেছে রাজ্য়  সরকার। যা দেখিয়ে দেয় রাজ্য়ক করোনা যুদ্ধে সাহায্য় করতে কীভাবে  এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

তবে শুধু এই ক্ষেত্রেই নয়,পিপিই-র ক্ষেত্রেও ৫লক্ষ ৮০ হাজার সামগ্রী বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য়কে ইতিমধ্য়েই ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার পাঠানো হয়ে গেছে। ট্যাবলেট বা লিকুইড আকারে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাঠানো হয়েছে ২৩লক্ষ ৫০ হাজার। ২০০ মিলিগ্রামের এই বরাদ্দ ইতিমধ্য়েই মমতার সরকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন,বাংলার করোনা পরিস্থিতি বিরুদ্ধে লড়তে রাজ্য় সরকারকে সাহায্য় করে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অতীতেও এ নিয়ে মিথ্য়ে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তথ্য বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩০০ টি ভেন্টিলেটর চেয়েছিল রাজ্য়। কেন্দ্রীয় সরকার ৩২০টা ভেন্টিলেটর বাংলার জন্য বরাদ্দ করেছে। যার মধ্য়ে ২৬০টি ভেন্টিলেটর ইতিমধ্য়েই পেয়েছে বাংলা। আসানসোলের বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, এই বেশি বরাদ্দের মধ্য়েও পশ্চিমবঙ্গকে বেশি দেখার কিছু ছিল না। কেন্দ্রের কাছে বেশি ভেন্টিলেটর ছিল তাই চাহিদার থেকে বেশি সংখ্য়ার মেশিন বরাদ্দ করেছে।

তবে ভেন্টিলেটর নিয়ে তথ্য় দেওয়ার মাঝে মমতাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বাবুল। বিজেপির এই সাংসদ বলেন,সাংবাদিকদের সামনে কেন্দের থেকে ১০ হাজার ভেন্টিলেটর চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওনার হয়তো ভেন্টিলেটর সম্পর্কে সম্যক ধারণা নাও থাকতে পারে। ভেন্টিলেটর যে কীরকম জটিল একটা মেশিন, তা তৈরির ব্যয় ও সময়ের বিষয়টা মুখ্য়মন্ত্রী জেনে না না জেনে বলেছিলেন তা আমার জানা নেই। এটুকু বলতে পারি, ১২০ কোটির দেশে একটা রাজ্য় ১০ হাজার ভেন্টিলেটর চাইতে পারে এটাই একটা হাস্যকর বিষয়।