ফের বিতর্কে দিলীপ ঘোষ বিশিষ্টজনদের বেলাগাম আক্রমণ বিজেপি রাজ্য সভাপতির নাগরিকত্ব আইন বিরোধী ভিডিও করে দিলীপের রোষে বিশিষ্টরা গুলি করার তত্ত্বেও অনড় খড়্গপুরের সাংসদ

নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রচার করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের রোষের মুখে পড়লেন বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষজনেরা। সব্যসাচী চক্রবর্তী, রূপম ইসলামদের আক্রমণ করতে গিয়ে ননসেন্স, নেমক হারাম, বললেন খড়্গপুরের সাংসদ। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রচার করার জন্য সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত কিছু বিশিষ্ট মানুষ। সেই তালিকায় সব্যসাচী চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, সুমন মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্ব। ওই ভিডিও-র নাম দেওয়া হয়েছে 'কাগজ আমরা দেখাব না।' ভিডিও-টিতেও ওই একই বার্তা দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। 

এই ভিডিও-তে অংশ নেওয়ার জন্যই বিজেপি রাজ্য সভাপতির রোষে পড়তে হয়েছে সব্যসাচী, ধৃতিমানদের। এ দিন দলের রাজ্য অফিসে দিলীপবাবু বলেন, 'যে বুদ্ধিজীবী কমিউনিস্টরা প্রচার করছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেরই সত্যি সত্যি কাগজ নেই। বিদেশে গিয়ে সোনা চুরি করে ধরা পড়েছেন এমন কমিউনিস্টও আছেন। আমাদের নাক কান কাটিয়ে দিয়েছেন, বলছেন কাগজ নেই।' 

এখানেই না থেমে বিজেপি রাজ্যসভাপতি বলতে থাকেন, 'বিমানবন্দরে ঢুকতে গেলে পরিচয়পত্র না দেখালে ঢুকতে পারবেন? রেলে পরিচয়পত্র না দেখালে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেবে। এই ননসেন্স- গুলো কিছু জানেই না। বিনা রেশন কার্ডে রেশন পাওয়া যায়? এঁরা সিনেমার টিকিট না কেটে গিয়ে কি পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকতেন নাকি ট্রেনে বিনা টিকিটে যাতায়াত করতেন? এত নেমক হারাম এঁরা। কাগজ তো অনেকেরই নেই আমরা জানি। যাঁদের নেই তাঁরা ধরাও পড়বে। যত এরা মিথ্যে প্রচার করছে তত এদের দলগুলি শুয়ে পড়ছে। আমার তো মনে হয় পরের নির্বাচনে এদের দলগুলি লড়তে পারবে না।'

সম্প্রতি কৃষ্ণনগরে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের পথ আটকে বিতর্কে জড়ান দিলীপ ঘোষ। এর পর আবার রানাঘাটে গিয়ে তিনি নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার নিদান দিয়ে বিতর্কে জড়ান। এ দিনও নিজের সেই বক্তব্যেই অনড় থেকেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। 

দিলীপবাবুর এই মন্তব্যের কড়া নিন্দা করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'যাঁর নিজেরই বোধ নেই তিনি আবার অন্যকে নির্বোধ বলেন কীভাবে?'