দীপাবলি, কালীপুজোয় সাবধান। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিষেধ অমান্য় করলেই ৫ থেকে ৭ বছরের জেল। সঙ্গে জরিমানা হতে পারে ৫ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা। বুধবার এমনই জানিয়েছেন পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র। কিন্তু কী আছে নিষেধাজ্ঞায় ?

পর্ষদের চেয়ারম্য়ান জানিয়েছেন, কোনওভাবেই রাজ্যে শব্দবাজির তাণ্ডব সহ্য করা হবে না। কোনও জায়গায় নিষিদ্ধ শব্দবাজি পোড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেলেই ব্য়বস্থা নেওয়া হবে। দীপাবলি,কালীপুজোয় শব্দতাণ্ডব রুখতে পুলিশের সঙ্গে গাটঁছড়া বেঁধেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এদিন কল্য়াণবাবু জানান, কালীপুজো এবং দীপাবলি উপলক্ষে দূষণ রুখতে মোট আটটি ভ্রাম্যমান গাড়ি মোতায়েন করবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এই গাড়িগুলি কলকাতা এবং শহরতলি অঞ্চলে কোথায় শব্দবাজি ফাটানো হচ্ছে তা লক্ষ্য করেবে। পাশাপাশি বাজির জেরে কোথায় কতটা দূষণ হচ্ছে তার ওপরও নজরদারি চালাবে ও ভ্রাম্যমান গাড়ি। 

এখানেই শেষ নয়। এবার  আবাসন ছাড়াও বিভিন্ন পাড়ায় ১৩০০ সাউন্ড মিটার বসাবে পর্ষদ। সেগুলি কালীপুজো,দীপাবলির সময় শব্দের তীব্রতার ওপর নজর রাখবে। পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১৪০টি অভিযোগ জমা পড়েছিল তাঁদের কাছে। তাই প্রথম থেকেই এবার সতর্ক থাকবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি। তবে পর্ষদ একা নয়, আগে থেকেই নিষিদ্ধ শব্দবাজির তাণ্ডব রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুলিশি। ইতিমধ্য়েই নিষিদ্ধ বাজি হাতে ধরা হয়েছে বেশকিছু জনকে। কদিন আগেই দীপাবলি  ও কালীপুজো উপলক্ষ্য়ে পুজো কমিটিগুলোকে ডেকে পাঠিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা জানিয়ে দেন, কোনওভাবেই কালীপুজোয় ডিজে বাজাতে পারবে না পুজো কমিটি। এমনকী মণ্ডপের কাছাকাছি শব্দবাজিও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।   

শব্দবাজির ধামাকে রুখতে ইতিমধ্যেই শহরে স্কুলপড়ুয়ারা মুখে মাস্ক পরে মিছিল করেছে। পাড়ায় পাড়ায় সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। তবে শেষপর্যন্ত সবকিছু করেও কতটা শব্দবাজির আতঙ্ক কাটানো যাবে , তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে খোদ প্রশাসন। তাই আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ।