জঙ্গিহামলা বা অপহরণ, যখন তখন হতে পারে শহরের নামী স্কুলে। এই মর্মে রিপোর্ট পেয়ে এক প্রকার হতভম্ব হাইকোর্ট। তড়িঘড়ি নোটিশ দেওয়া হল স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

সম্প্রতি লা মার্টিনিয়ার স্কুলের নিরাপত্তার অবস্থা নিয়ে আধা সামরিক বাহিনীকে দিয়ে সমীক্ষা করায় কর্তৃপক্ষ। সেই সমীক্ষায় বেশ বড় ফাঁক ধরা পড়েছে। লা মার্টিনিয়ার স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে সিআইএসএফ-এর রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের ফাঁক দিয়ে মশামাছি নয়, ঢুকে যেতে পারে জঙ্গি বা অপহরণকারীও। উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট লা মার্টিনিয়র স্কুলের সচিব এবং প্রিন্সিপালকে নোটিশ পাঠাল  এই বিষয়ে জবাবদিহি করার জন্যে।

এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতীপপ্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার স্কুলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি পরিষ্কার বলেন, দিনের পর দিন এমনটা চলতে পারে না। তিনিই জানিয়ে দেন, ২০১৭ সালের শিশু নিগ্রহের ঘটনার পরে স্কুলগুলিতে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কী ব্যবস্থা হয়েছে রাজ্য সরকারকে তা জানাতে হবে হাইকোর্টে। তার এজলাসে জিডি বিড়লা স্কুলের মামলা চলাকালে আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিব্রিওয়াল লা মার্টিনিয়র প্রসঙ্গ প্রসঙ্গ তোলেন। এর পরেই তিনি লা মার্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানোর কথা বলেন। সিদ্ধান্ত হয় এই মামলাটির সঙ্গে লা মার্টের নিরাপত্তার বিষয়টিও জুড়ে দেওয়া হবে, কেননা শিশু নিরাপত্তা বিষয়কেই। শুনানিতে এই দুটি প্রসঙ্গেই রায় দেবে আদালত।

প্রসঙ্গত এদিন আদালতের তরফে নোটিশ পাঠানো হয়েছে  কৃত্তিকার বাবা-মাকেও। আদালত জানতে চায় কৃত্তিকার তদন্ত ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে।

শিশুর নিরাপত্তা জোরদার করতে এদিন রাজ্য সরকারকে কয়েকগুচ্ছ পরামর্শও দিয়েছে রাজ্য সরকার। অন্য দিকে, গোটা ঘটনায় উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার চাইছে স্কুলে স্কুলে এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরি করতে। এই নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলবেন তাঁরা।