রিল লাইফ বদলে গেল রিয়েল লাইফে। একেবারে বলিউড সিনেমার আদলে জীবনের চিত্রনাট্য় লিখল ত্রিপুরার কিশোর। ১৪ বছর বয়সে সৌরভকে দেখতে বাড়ি থেকে পালাল উদয়ন চক্রবর্তী। ক্রিকেট পাগল ছেলের এই কাণ্ড দেখে হতবাক পরিবার। 

সেটা ছিল আশির দশক। তখনও বম্বের নাম মুম্বই হয়নি। আরব সাগরের তীরে বলিউডে নাম লেখাতে বাড়ি ছাড়ত কিশোর-কিশোরীরা। স্বপ্ন একটাই সিনেমায় মুখ দেখানো সঙ্গে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের হাতছানি। এবারও সেই একই আদলে ঘরছাড়ার নজির গড়ল ত্রিপুরার কিশোর উদয়ন চক্রবর্তী। তবে সিনেমার জন্য নয়, ক্রিকেটের জন্য। অমিতাভ, শাহরুখকে দেখতে মুম্বই পাড়ি দেয়নি উদয়ন। মহারাজের ভক্ত ত্রিপুরার বাড়ি ছেড়েছে সৌরভকে দেখতে। যদিও শেষ পর্যন্ত মাহারাজকে দেখার শিঁকে ছেড়েনি উদয়নের। শিয়ালদহ স্টেশনেই ধরা পরে গিয়েছে সে। 

ছেলেকে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন উদয়নের বাবা উজ্জ্বল চক্রবর্তী। খোঁজ শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে হ্যাম রেডিয়োর সাহায্য় নেয় ত্রিপুরার পুলিশ। যোগাযোগ করা হয় রাজ্য রেল পুলিশের সঙ্গে। কলকাতায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করতে আসার পথে হ্যাম রেডিও সাহায্যে তার খবর পায় পুলিশ। ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস থেকে ধরা পরে মঙ্গলবার সকালে। তখনই সকালের বিমানে আগরতলা থেকে ত্রিপুরার পুলিশ উদয়নের বাবা উজ্জ্বল চক্রবর্তীকে খবর দেয়। তড়িঘড়ি বিমানে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে। এরপর সোজা শিয়ালদহ আরপিএফ অফিসে উজ্জ্বলবাবুকে নিয়ে যায় পুলিশ। ছেলেকে ফিরে পেয়ে বুকে বল পায় বাবা। 

উদয়নের বাবা জানিয়েছেন, সোমবার টিউশন যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরোয় ছেলে। কিন্তু পরে জানাতে পারেন টিউশন যায়নি ছেলে। বাড়ি গিয়ে না পাওয়াতেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তিনি। অষ্ঠম শ্রেণির ছাত্রের এহেন কাণ্ড দেখে অবাক হয়ে গিয়েছে  অ্যামেচারিস্ট হ্যাম রেডিও অপারেটর অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস। তিনি জানান, তাদের কাছেই বাড়ি থেকে পালানোর খোলসা করেন উদয়ন। অম্বরীশবাবু জানান, উদয়নের মতো বহু ঘটনা দেখেছেন তাঁরা। নিত্যদিন এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় তাদের।  

সম্প্রতি বিসিসিআই সভাপতি পদে বসেছেন সৌরভ। ক্রিকেট রাজনীতির পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হচ্ছে বিপক্ষের অভাব অভিযোগ। উদয়নের মতো ইনুরাগীরা যে তাঁর চাপ আরও বাড়াবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।