চিকিৎসায় কোনও খামতি ছিল না। একরত্তি ছেলেটাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষরক্ষা হল কই! ঋষভ সিংয়ের বাবা-মাকে ফোন করে সমাবেদনা জানালেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পড়ুয়াদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে যে গাড়ি বদল করা হত, সে বিষয়ে অভিযোগ জানানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: 'সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ কাদের শেখাব', ঋষভের মৃত্যুতে চোখে জল সাংসদেরও

হুগলির চুঁচুড়ার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল ঋষভ। রোজকার মতোই গত ১৪ ফ্রেরুয়ারি স্কুলের যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। কিন্তু একরত্তি ছেলেটা যে আর ফিরবে না, তা কে জানত! যে পুলকারে করে স্কুলে যাচ্ছিল ঋষভ, সেই গাড়িটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা কবলে পড়ে পোলবার কাছে কামদেবপুরে। দিল্লির রোডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলকারটি উল্টে যায় নয়ানজুলিতে। খবর পেয়ে যখন হুগলির ইমামবাড়া হাসপাতালে পৌঁছন পরিবারের লোকেরা, ততক্ষণে চিকিৎসা শুরু হয়ে গিয়েছে ঋষভের। কিন্তু শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে, গ্রিন করিডোর করে তাকে নিয়ে আসা হয় কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে। টানা আটদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গিয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রটি।  শনিবার ভোরে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোল ঢলে পড়ে ঋষভ সিং। 

আরও পড়ুন: 'দুর্ঘটনার দিন স্কুলে যেতে চায়নি ঋষভ', ছেলের মৃতদেহের সামনে জ্ঞান হারালেন বাবা-মা

ছোট্ট ঋষভের শেষযাত্রায় মানুষের ঢল নেমেছিল শ্রীরামপুরে। তার বাবা আবার তৃণমূল কাউন্সিলর, ফলে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের ভিড়ও ছিল যথেষ্টই। হাজির ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরও। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সেদিন ঋষভের পরিবারের সঙ্গে আর দেখা করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ঋষভের বাবা ও শ্রীরামপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর সন্তোষ কুমার সিং-কে ফোন করে খোঁজখবর নেন তিনি।  সন্তানকে তো আর ফিরে পাবেন না! তবে মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলে অনেকটাই সাহস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সন্তোষ। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি আইনি পদক্ষেপ করারও চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গিয়েছে।