প্রাকবর্ষায় বৃষ্টি হয়নি গোটা দেশে। গত ৬৫ বছরে মাত্র দুইবার এমন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে গোটা দেশ। এখানেই শেষ নয়, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চল কার্যত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। চেন্নাইয়ের অবস্থা ভয়াবহ, তামিলনাড়ুতে ৪১ শতাংশ বৃষ্টি কম হবয়েছে। তামিলনাড়ুর সিপিএম সাংসদ টিকে রঙ্গরাজন বলছেন, 'চেন্নাইতে জলের থেকে সস্তা সোনা।' এই আবহে জল সংকট মোচনে সরব বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

এদিন বিধানসভা থেকেই 'জল বাঁচাও, বিদ্য়ুৎ বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও' স্লোগান তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কারণে রাজ্যেও দিন দিন পানীয় জলের সমস্যা বাড়ছে। সমীক্ষার মাধ্যমে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা ব্লকগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ জলসংকটের আতঙ্কে দেশের বেশ কিছু অংশ! বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন জল বাঁচানোর ৫টি উপায়

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জল ধরো জল ভরো প্রকল্পের ওপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপের কথা বলেছেন। প্রসঙ্গত, এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে পশ্চিমবঙ্গের মজে যাওয়া নদীর সংস্কার করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের জন্যে খরচ হবে ২৭০০ কোটি টাকা। প্রাথমিক ভাবে বাঁকুড়া, বীরভূম, হুগলি জেলায় কাজ শুরু করবে রাজ্য সরকার।

প্রসঙ্গত জলসংকট নিয়ে দিন কয়েক আগে সংদসকক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। জলবন্টন পরিস্থিতি ক্ষতিয়ে দেখার জন্যে  ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে জলবন্টন মন্ত্রকের কথাও বলেছেন তিনি। এমনকী হলিউড তারকা লিওনার্জো ডিক্যাপ্রিও চেন্নাইয়ের জলসংকট নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। 

সম্প্রতি নীতি আয়োগের একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ-সহ ভারতের ২১টি রাজ্যের ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের পরিমাণ একেবারে তলানিতে এসে ঠেকবে। যার ফলস্বরূপ ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ তীব্র জলকষ্টের মধ্যে পড়বেন। সূত্রের খবর, প্রতি বছর প্রায় ২০০,০০০ মানুষ মারা যাচ্ছেন কেবলমাত্র পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাবে এবং দূষিত ও অবিশুদ্ধ পানীয় জল পান করে।