বিরোধীরা সওয়াল করেছিলেন আগেই। রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা এবার স্বীকার করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে এই কথা বলেন মমতা।


রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলেছেন বিরোধীরা। বার বার রাজ্য়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি জানতে আলোচনা চেয়েছেন বিধানসভায়। শুক্রবার সওয়াল জবাবে বেরিয়ে এল আসল তথ্য। খোদ মুখ্য়মনত্রী জানালেন, রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে রাজ্যে ক্রমশ ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় বাংলাদেশের মহামারীকেও কিছুটা দায়ী করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। মমতা জানান, বাংলাদেশের মহামারী আকার নিয়েছে ডেঙ্গু। মূলত সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণে ২৪ পরগনার বনগাঁ , হাবরায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্য়া সবথেকে বেশি। 
রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১৭ ছাড়িয়েছে। এদিনই রাজারহাটের এক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে আরও এক জনের। সব মিলিয়ে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্য়া ছাড়িয়েছে ১৮। রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৫০০  জন পেরিয়ে গিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছে ১৩ জন । বেসরকারি হাসপাতালে মৃতের সংখ্যা ৪ জন। যা ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীর মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। 

শুক্রবার বিধানসভায় রাজ্যের ডেঙ্গুর সমস্যা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন বিরোধীরা। চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ ধুম জ্বর এলে গায়ে  র‍্যাশ বেরোচ্ছে কিন দেখতে হবে রোগীদের। মূলত, ডেঙ্গু আক্রান্তদের জ্বরের সঙ্গে অসহ্য মাথাব্যাথা হয়। অনেক ক্ষেত্রে চোখের আশপাশ ফুলেও যেতে পারে। গা বমি ভাব ও পেশি গাঁটে ব্যাথা এই রোগের অন্যতম উপসর্গ। এই সময় খিদে পায় না রোগীর। গত কয়েক বছর ধরেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করছে রাজ্য় সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না মমতার সরকার। চলতি বছর রাজ্য়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে রাজ্য সরকার।