বিজেপির এজেন্ট সেজে খড়গপুরের বুথে বসেছিল তৃণমূলের লোকজন। তিন বিধানসভা উপ নির্বাচনে হারের সাফাই দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ। যদিও বিজেপির  রাজ্য সভাপতির এমন দাবি মেনে নিতে পারছেন না অন্যরা। 

ভোট পরবর্তী সময়ে ২৭টি বুথে পুননির্বাচনের কথা বলেছিলেন বটে। কিন্তু তা নিয়ে তৃণমূলের সন্ত্রাস  বা রিগিংয়ের কথা সেভাবে বলেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। যদিও দলের সদর দফতরে হারের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে সেই সন্ত্রাসের কথাই বার বার তুলে ধরলেন দিলীপবাবু। রাজ্য বিজেপির প্রধানের দাবি,খড়গপুরে বিজেপির  এজেন্ট সেজে তৃণমূলের বসে থাকার বিষয়টি প্রথমে জানতে পারেননি তিনি। এখন তাঁদের কাছে সেই খবর এসে পৌঁছেছে। কী করে এটা সম্ভব হল, তা খতিয়ে দেখতে দলীয় তদন্ত হবে।


যদিও দলের রাজ্য় সভাপতির এহেন বক্তব্য়ের সঙ্গে একমত নন বিজেপি নেতৃত্ব। দলে মুকুলপন্থী নেতাদের দাবি, নিজের খাসতালুকে হার ঢাকতেই এমন আজগুবি কথা বলছেন দিলীপবাবু। খড়গপুরের হারের জন্য যে তাঁর সাংগঠিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে তা ভালোই জানেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তাই হারের জন্য অন্য ধরনের যুক্তি সাজাচ্ছেন তিনি। তবে হারের পিছনে শুধু তৃণমূলের সন্ত্রাসকেই কঠগড়ায় দাঁড় করাননি দিলীপ ঘোষ। এই হারের পিছনে বিজেপি কর্মীদের গা ছাডা় মনোভাবকেও দায়ী করেছেন তিনি।তিনি জানিয়েছেন, জিতলেও আসন ধরে রাখার শিক্ষা এখনও তাঁরা পাননি। তাই খড়গপুর সদর আসন হাতছাড়া হয়েছে তাঁদের।   

 এদিন খড়গপুরে হারের কারণ  জানতে চাওয়ায় দিলীপবাবু বলেন,  চাইলেই যেকেউ হারের জন্য তাঁকে টার্গেট করতেই পারেন। মনে রাখতে হবে লোকসভায় এখান থেকেই তিনি জিতেছেন। রেল শহরে হারের পিছনে প্রার্থী নির্বাচন একটা কারণ হতে পারে বলে জানান বিজেপির সাংসদ। তিনি বলেন, প্রার্থী নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকতে পারে। লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে প্রচারে নামা হয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনে সেই মনোভাবে প্রচারে নামেননি কর্মীরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা ভেবেছেন, এখানে তো অনেক লিড আছে জয় নিশ্চিত। কিন্তু শেষমেশ তা হয়নি। 

বিজেপি সাংসদের মতে, যে যখন সরকারে থাকে, উপ নির্বাচনে ভয় দেখিয়ে পুলিশকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এ বিষয়ে আগেই আমরা কমিশনের কাছে বলেছি। এদের ক্ষমতায় থাকার পরেও একটা সিট ছিল আমরা সেই সিট হারিয়েছি । এখানে গত নির্বাচনে আমরা যত ভোটে জিতেছিলাম, সেখানে ১০ হাজার ভোট মাইনাস হয়েছে। এই নিয়ে তেমন ভাবনার কিছু নেই। এই আসন তৃণমূল প্রথমবার জিতেছে। ঠিক যেমন আমরা ১৮টা সিট প্রথমবার  জিতেছি। আসন জিতলেই হয় না । ধরে রাখতে হয়। বিজেপিও নিজের আসন ধরে রাখার চেষ্টা করবে।