পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে কেন্দ্রীয় সরকার দিচ্ছে ৮৫ শতাংশ খরচ। শ্রমিকদের টিকিটের জন্য় কোনও টাকা দিতে হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও শ্রমিকদের ফেরাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে না মমতার সরকার। উল্টে শ্রমিকদের ফেরানোর বদলে বিশেষ সম্প্রদায়ের তীর্থযাত্রীদের নিয়ে আসা হচ্ছে রাজ্য়ে। রাজ্য় সরকারকে অমিত শাহের চিঠি প্রসঙ্গে বললেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

তিনি বলেন,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্য় সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয়  সরকার বলেছে, রাজ্য় সরকারের দায়িত্ব কোথা থেকে কে আসবে তা ঠিক করা। সরকার ট্রেন চালাবে। কোনও শ্রমিককে টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হবে না। এই ট্রেন চালানোর যে খরচ হবে, তা কেন্দ্রীয় সরকার  ৮৫ শতাংশ দেবে। বাকিটা রাজ্য় সরকারকে দিতে হবে। বিহারের শ্রমিকরা দেখছেন, তাদের সরকার শ্রমিকদের বাড়ি নিতে ব্যবস্থা করছে, অথচ বাংলার সরকার করছে না।  

এদিন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি বলেন, শ্রমিকরা যখন অন্য রাজ্য় থেকে বাড়ি আসার জন্য় ছটফট করছেন , তখন মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। উনি কি প্রশান্ত কিশোরকে রাজপাট বুঝিয়ে বানপ্রস্থে চলে গিয়েছেন। অন্য রাজ্য়গুলি যখন নিজেদের পরিযায়ী  শ্রমিকদের আনার জন্য় চেষ্টা চালাচ্ছেন তখন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় অমিত শাহকে পাল্টা টুইট করতে ব্যস্ত।  

এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি দিলীপবাবু। তিনি বলেন, 'রাজ্য়ের  মানুষ যখন হাহাকার করছেন, কোথা থেকে আকাশবাণী শোনাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। উনি এখন কোথায় আছেন। মুখ্য়মন্ত্রী এক মাস ধরে নাটক করলেন,চাল ডাল বিতরণ করলেন ফটো তুললেন,তারপর কোথায় উধাও হয়ে গেলেন । উনি কি কোয়ারান্টাইনে গেছেন। তাঁর স্বাস্থ্য় কি ঠিক আছে। এই দুঃসময়ে মানুষ যখন খাবার পাচ্ছে না। তখন মুখ্য়মন্ত্রীকে পাওয়া যাচ্ছে না।'

দিলীপের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি শ্রমিকদের আনার ব্যবস্থা না করতে পারেন তা হলে লিখিত দিয়ে জানাক। বিজেপি সেই সব রাজ্য়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ার থাকার ব্যবস্থা করবে। থার আগে মুখ্য়মন্ত্রীকে কোন রাজ্য় কত বাংলার শ্রিমক আটকে রয়েছে বিজেপিকে তার হিসেব দিতে হবে। 

কদিন আগেই আজমের শরিফ থেকে রাজ্য়ে ডানকুনিতে একটি ট্রেন  আসে। যেখানে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের তীর্থযাত্রীদের ট্রেনে করে আনা হয় বলে দাবি করেন বিজেপির  রাজ্য়  সভাপতি। তাঁর দাবি, অন্য রাজ্য় যখন পরিযায়ী শ্রমিকদের আনার জন্য় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ ট্রেন চালানোর আবেদন করছে। তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার  মাত্র দুটো ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছে। সেখানে বিশেষ সম্প্রদায়ের তীর্থযাত্রীদের নিয়ে আসায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।