রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর সংঘাত বেড়েই চলেছে।  মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে চিঠির জবাব পাবেন, তা ভাবতেই পারেননি তিনি।  চিঠি পেয়ে উচ্ছ্বসিত রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। টুইট করে বার্তা দিলেন, 'গণতন্ত্রে আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে চলতে হবে।' 

প্রথমে কোর্ট বৈঠকে, তারপর সমাবর্তন অনুষ্ঠান।  চলতি সপ্তাহে দু'বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনকড়। সোমবার কোর্ট বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সামনে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতেই বসে থাকতে হয় তাঁকে। শেষপর্যন্ত অবশ্য বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যপাল। কিন্তু পরিস্থিতি চরম আকার নেয় মঙ্গলবার, সমাবর্তনের দিনে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে বাইরে রাজ্যপালের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা।  রাজ্যপালকে কালো পতাকা দেখানো হয়, ওঠে গো ব্যাক স্লোগানও। বাধ্য হয়েই রাজভবনে ফিরে যান জগদীপ ধানকড়। ঘটনার পর  টুইট করে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। রাজ্যপাল লেখেন, ভিসি-কে আমি বলেছিলাম, তিনি যেন আমার নির্দেশ মতো সমাবর্তনের ব্যবস্থা করেন। তাঁকে বিধিসম্মতভাবে কাজ করতে বসেছিলাম।  আশ্চর্যের বিষয়, তা সত্ত্বেও আগের মতোই সব শুরু হল। আমি অসহায় অবস্থার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সবপক্ষ ভেবে দেখুক, কেন এমন হল।'  

 

 

গত ২৫ ডিসেম্বর যাদবপুর-সহ রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই চিঠির জবাব এসেছে রাজভবনে।  জবাবি চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যপালের চিঠি তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পাঠিয়ে দেবেন। শিক্ষামন্ত্রী সুবিধামতো রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনে রাজভবনে তাঁর প্রতিকৃতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু উপস্থিত থাকা তো দূর, মুখ্যমন্ত্রী চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার পর্যন্ত করেননি বলে অভিযোগ।